সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মী রিমান্ডে

শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুবলীগের ১৫ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৯ অগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এই আদেশ দেন।

এদিন ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান আসামিকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন- যুবলীগ নেতা মোত্তালিব (৩৫), যুবলীগ নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা (২৭), যুবলীগ নেতা মো. রুবেল (৩২), জি কে মাসুদ (২৮), অন্তর মিয়া (১৯), মো. রমজান (৪৫), মামুন (২৯), মিঠু ওরফে আমির হোসেন (৩০), আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯), মো. সুমন মিয়া (৩০), আরিফ মিয়া (২২), মোস্তাক মিয়া (২০), সাইম হোসেন (২০), জাহিদ হাসান (১৯) ও শাহীন হোসেন ইমন (২০)। তারা নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত গোপন খবরের ভিত্তিতে ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ভাটারা থানা পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ অগস্ট উপলক্ষ্যে একত্রিত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়। ব্যানারগুলোর মধ্যে ১৫ অগস্ট উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের কথা বলা ছিল। আসামিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়ে গোপন বৈঠক করছিল। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করার স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।

এজাহার থেকে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে নাশকতা ও দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ভাটারা থানা পুলিশ। পুলিশ উপস্থিত হলে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে সেখান থেকে মোট ৫২ জনকে আটক করা হয়।

মামলার পরে গত ১৪ আগস্ট আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন দুই আসামিকে বয়স বিবেচনায় শিশু হওয়ায় গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *