ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর পরই খেই হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাঝে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষটা ভালো হয়নি। এতে ২০০ রানের আগেই থামে তারা। এমন পুঁজি নিয়ে জয়ের জন্য যেমিন বোলিং করা প্রয়োজন ছিল সেটি করতে পারেনি ক্যারিবীয় বোলাররা। উল্টো তাদের শাসন করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ভারতকে সহজ জয় এনে দেন শ্রেয়ার আইয়ার।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) লখনৌতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৯.১ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাব দিতে নেমে ১৪.৪ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত। এই জয়ে ৫ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল ভারত। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারান তারা। সান্জু স্যামসন ৯ বলে ১১ ও অভিশেষ শর্মা ১০ বলে ২১ রান করে ফেরেন।
তবে শুরুর সেই ধাক্কা আর বড় হতে দেননি ইশান কিষাণ আর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। ক্যারিবীয় বোলারদের শাসন করে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন তারা। ইশান কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন শ্রেয়াস। তৃতীয় উইকেটে ৬৮ বলে ১৩৭ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন তারা।
এর মাঝেই টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন শ্রেয়াস। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর ২৭ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন ইশান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সমান একটি করে উইকেট নেন আকিল হোসেন আর রোস্টন চেজ।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার শাই হোপ আর কামিল পুরান মিলে গড়েছিলেন ৩৮ রানের জুটি। কিন্তু এরপরই দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা। ১১ বলে ১২ রান করে ফেরেন পুরান। এরপর দ্রুতই বিদায় নেন শিরান হেটমায়ার (২ বলে ৫) আর রোভম্যান পাওয়েল (৩ বলে ০)।
সেখানে থেকে জুটি গড়ে দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন একপ্রান্ত আগলে রাখা শাই হোপ আর শেরফান রাদারফোর্ড। চতুর্থ উইকেটে ৩৫ বলে ৬৩ রানের জুটি গড়েন তারা। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে হোপ ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ৩৭ বলে ৫২ রান করে নামান ধীরের শিকার হন তিনি।
এরপর আবারও ব্যাটিং ধস দেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের ব্যাটারদের মধ্যে শুধু আকিল হোসেন দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেন। ৯ বলে ১৫ রান করেন তিনি। এর বাইরে একপ্রান্ত আগলে রেখে চেষ্টা চালিয়ে যান রাদারফোর্ড। তবে হাফসেঞ্চুরি করে তিনিও বেশিদূর যেতে পারেননি। ৩৪ বলে ৫৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ১৭১ রানে।
ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন নামান ধীর। সমান দুটি করে উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল আর কুলদ্বীপ যাদব। একটি করে উইকেট যায় আর্শদ্বীপ সিং ও মায়াঙ্ক যাদব।