বোলিংটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। শেষের ঝড়ে বড় পুঁজি দাঁড় করালো অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়নস। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু আর শেষে এসে কিছুটা ব্যাটিং ঝলক দেখা গেলেও মাঝের ব্যাটারদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস দলকে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির লড়াইয়ে ৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া পাহাড়সম ২০৩ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের ইনিংস শেষ পর্যন্ত থামে ১৬৬ রানে গিয়ে।
রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং রনি তালুকদার মিলে উদ্বোধনী জুটিতে তুলে ফেলেন ৩০ রান। ৬ বলে ৯ রান করে রনি আউট হয়ে ফিরে গেলেও ইমরুল একপ্রান্ত আগলে রেখে চমৎকার খেলতে থাকেন। উইকেটের চারপাশে নান্দনিক সব শট খেলে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। তিনে নামা ফজলে মাহমুদ রাব্বিও তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন।
তবে দলীয় ৭১ রানের মাথায় আঘাত হানে অস্ট্রেলিয়া। দারুণ খেলতে থাকা ওপেনার ইমরুল কায়েস ৩০ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন। আর ঠিক তার পরের ওভারেই বিদায় নেন রাব্বিও (২০ বলে ২৭ রান)।
এরপরই যেন হঠাৎ ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। একপ্রান্ত আগলে রেখে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ চেষ্টা চালালেও অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা কেউই দলের জন্য বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে এসে চিরচেনা ভঙ্গিতে একাই ঝড় তোলেন রিয়াদ।
মাত্র ২৬ বলে বিধ্বংসী ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি। ২ চার ও ৮ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।
তবে ওভারপ্রতি প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাকিরা স্কোরবোর্ড সচল রাখতে না পারায় ম্যাচটি বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে যায়। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাহাড়সম ৫১ রান প্রয়োজন পড়ায় বাংলাদেশ দল তুলতে সক্ষম হয় মাত্র ১৩ রান, ফলে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ২৭ রানের মাথায় ডেভিড ওয়ার্নার এবং উসমান খাজার বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ওপেনিং জুটি ভাঙেন পেসার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। এরপর তিনে ব্যাট করতে নামা ড্যাসি শর্টকেও দ্রুত সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর চারে নামা জো বার্নসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৬ বল খেলে ৯ রান করে বিদায় নেন তিনি।
বাকিরা ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের রানের চাকা সচল রাখেন মারকুটে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। পাঁচ নম্বরে নেমে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন অভিজ্ঞ কালাম ফার্গুসন। এই দুজনে মিলে দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
দলের ১৩৩ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৮ বলে ঝোড়ো ৬৬ রানের ইনিংস খেলে রুবেল হোসেনের বলে কাটা পড়েন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে অন্যপ্রান্তে সাবলীল ব্যাটিং চালিয়ে যান ফার্গুসন। ফিফটি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি টাইগার বোলারদের ওপর রীতিমতো চড়াও হয়ে দ্রুত গতিতে রান তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৩৬ বলে ৬৩ রান করে।
ইনিংসের শেষদিকে ঝড় তোলেন বেন ডাঙ্কও। মাত্র ২৪ বলে ৪টি ছক্কা ও ২টি চারের সুবাদে ৪৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি। এ ছাড়া জিয়াউর রহমান নেন ২ উইকেট এবং পেসার রুবেল হোসেনের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট।