আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির ঐতিহাসিক বিদায়ের মতো এমন একটি আবেগঘন রাতেও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ–সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এমনকি খেলা শেষ হওয়ার পরও সেই প্রতিবাদ ও দুয়োধ্বনির রেশ থামেনি।
আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘লা নাসিওন’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, প্রথমে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের বিখ্যাত সেন্টেনারিও গ্যালারির ওপরের অংশ থেকে এএফএ সভাপতি তাপিয়াকে সরাসরি লক্ষ্য করে তীব্র কটূক্তি ও স্লোগান দেওয়া শুরু হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই প্রতিবাদের ঢেউ স্টেডিয়ামের সিভোরি স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য অংশেও হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্বাগতিক রিভার প্লেট ক্লাবের অতি উৎসাহী ও স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক সমর্থকেরাও একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সেই প্রতিবাদী মিছিলে যোগ দেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর যখন পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকার কথা, তখনও একই রকম অপ্রীতিকর চিত্র দেখা গেছে। মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যখন স্টেডিয়ামের রাতের আকাশে বর্ণিল ড্রোন শো চলছিল, ঠিক সেই বিশেষ মুহূর্তটিতেও তাপিয়াকে উদ্দেশ্য করে গ্যালারি থেকে ব্যাপক দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।
দর্শকদের এমন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার পেছনে অবশ্য আরও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে ড্রোন শো-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক। মেসির মতো মহাতারকার বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মতো আবেগঘন একটি আয়োজনের ঠিক শুরুতেই যখন রাতের আকাশে ড্রোনের মাধ্যমে এএফএর একজন বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষক বিমা প্রতিষ্ঠানের নাম ও বিশাল লোগো ফুটিয়ে তোলা হয়, তখনই তা নিয়ে দর্শকদের মনে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে।
অবশ্য সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের তরফ থেকে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিগত বেশ কিছু বছর ধরেই আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নানা মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। আর ফুটবলের বরপুত্র মেসির এই বিদায়ী ম্যাচের নানা বাণিজ্যিক আয়োজন ও অব্যবস্থাপনা যেন সেই সুপ্ত অসন্তোষকেই মাঠে প্রকাশ্যে নিয়ে আসল।