দ্বিতীয় দিনের প্রথম দুই সেশনও স্বপ্নের মতো কাটাল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়লেন তানজিদ হাসান তামিম। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও আশা জাগালেন। এরপর মাঝে ছোটখাটো ব্যাটিং ধস দেখলেও দ্বিতীয় দিনটাও ভালোভাবেই শেষ করেছে বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর হাসান মাহমুদ। জুটি গড়ে হতাশ করেছেন অসি বোলারদের।
আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট ৩৫১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ১৫৩ রানের। ৭১ বলে ৩২ রানে অপরাজিত আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ আর ৭৬ বলে ১৩ রানে হাসান মাহমুদ।
৯ উইকেট আর ৯৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার পাওয়া নতুন বল বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন তামিম আর মুমিনুল হক। দুজন মিলে দারুণ করেছেন সকালে। দুই দিন মিলিয়ে তাদের এই দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেকে আসে ১০২ রান।
হাফসেঞ্চুরির কাছে পৌছে গিয়েছিলেন মুমিনুল। কিন্তু ইনিংসের ৪০তম ওভারে কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হয় তাকে। ৪৯ রানে জস হ্যাজলউডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন অ্যালেক্স ক্যারির হাতে।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে জুটি গড়েন তামিম। তৃতীয় উইকেট জুটিতে শতরানের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন তারা। নাথান লায়নের করা ইনিংসের ৬৪তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ইতিহাস গড়েন তামিম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে সেঞ্চুরি করেন এই ওপেনার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই পেলেন প্রথম সেঞ্চুরি।
সেঞ্চুরি করে অবশ্য বেশিদূর এগুতে পারেননি তামিম। নিজের পরের ওভারে এসেই টাইগার ওপেনারকে ফেরান লায়ন। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন মিচেল স্টার্কের হাতে। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বল খেলে ১০১ রান করেন তিনি। এতে ভাঙে ৯৩ রানের জুটি।
তামিম ফিরলে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে জুটি বাঁধেন শান্ত। এই জুটিও বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। সেঞ্চুরির পথে হাটছিলেন শান্ত। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে চা-বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার পাওয়া নতুন বলে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। আর ছোটখাটো ব্যাটিং ধস দেখে বাংলাদেশ।
৮২তম ওভারে জস হ্যাজলউডের বলে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত। ১২৬ বলে ৮৪ রানে তিনি ফিরলে ভাঙে ৬৬ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। এরপর শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে বড় দায়িত্ব ছিল উইকেটে থিতু হওয়া মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ওপর। কিন্তু দুজনই ফিরেছেন দৃষ্টিকটু আউট হয়ে হতাশ করে।
ইনিংসের ৮৫তম ওভারে স্টার্কের স্ট্যাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। পরের ওভারে একই ভুল করেন মুশফিক। অনেক বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে ক্যাচ অনুশীলন করার স্মিথকে। ফেরেন ৫৫ বলে ৩৬ রান করে।
এতে দ্রুতই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে হাসান মাহমুদকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দিনের বাকি ২৫ ওভার ব্যাটিং করে মুশফিক-লিটনকে দেখালেন কিভাবে ব্যাটিং করতে হয়। সপ্তম উইকেটে অপরাজিত ৪৩ রানের জুটিতে দিনশেষ করেন তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
অস্ট্রেলিয়া (প্রথম ইনিংস) : ৫৩ ওভারে ১৯৮/১০
বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ১১০ ওভারে ৩৫১/৬ (সাদমান ২০, তামিম ১০১, মুমিনুল ৪৯, শান্ত ৮৪, মুশফিক ৩৬, লিটন ০, মিরাজ ৩২*, হাসান ১৩*; স্টার্ক ২১-২-৬৮-২, হ্যাজলউড ২০-৩-৬৮-২, গ্রিন ৮-২-২৬-০, কামিন্স ২০-৩-৫০-১, লায়ন ২৫-১-৯২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৪-০, লাবুশেন ৩.৪-০-৪-০)