ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ণে ৯-২ গোলের লজ্জার হার দেখে বাংলাদেশ। তবে সেই বিতর্ক শেষ হওয়ার আগেই দুই ফুটবলার– সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা জুনিয়রের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সরকারি ক্রীড়া ভাতা বাতিল করা হতে পারে বলে।
গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাঠের খেলায় এমনিতেই আমাদের ফুটবলের ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক হয়েছে। এর ওপর আবার দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন অনভিপ্রেত অভিযোগ সামনে এসেছে, যা সত্যিই খুব কষ্টের। আমরা খতিয়ে দেখছি যে, ওই সময় দলের দায়িত্বে কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টে কারা দায়িত্বে ছিলেন।’
খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আমিনুল হক বলেন, ‘আমি একদম পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই, তদন্তে যদি ওই দুই ফুটবলারের নাইট ক্লাবে যাওয়ার অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তারা যদি সরকারি কোনো ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচির আওতাভুক্ত হয়ে থাকেন, তবে সেই ভাতাও সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে।’
ফুটবলাররা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) তত্ত্বাধানে থাকেন। তবে দেশের সকল ক্রীড়া ফেডারেশনের অভিভাবক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ঘটনাটি নিয়ে ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এনএসসি থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলেই বাকি কাজগুলো দ্রুত গুছিয়ে আনব। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’
তবে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা হবে বলে জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দলের এমন লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের পর তারা কীভাবে এ ধরনের কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করার সাহস পেল, সেটিও আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। পুরো বিষয়টি নিয়ে একদম নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হবে।’
এর আগে ঘটনার সূত্রপাত গত ১ অক্টোবর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় হারের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়। যা নিয়ে দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ইন্দোনেশিয়ার এক নারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ওই ছবিতে বিতর্কিত দুই ফুটবলারকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে অভিযুক্ত দুই ফুটবলার নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিটি পুরোনো এবং ম্যাচের পর রাতের কোনো ঘটনার সঙ্গে সেটির বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই।