অবসর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মার্টিনেজের

টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ এসেছিল আর্জেন্টিনার সামনে। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে হাতছাড়া করে শিরোপা। পুরো ম্যাচে বেশ কয়েকবার নিশ্চিত গোল আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলবারের নিচে বিশ্বস্ত হাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে একটি গোল আটকাতে পারেননি তিনি। সেটিই লিখে দেয় ম্যাচের ফলাফল।

বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ সংশয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন মার্টিনেজ। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেই মেঘ কেটে গেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের সেই গভীর ক্ষত ও কষ্ট পেছনে ফেলে আবারও আকাশি-সাদা জার্সিতে পুরোনো ছন্দে ফিরেছেন দলের এই নির্ভরতার প্রতীক।

বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আজকের ম্যাচেও গোলপোস্ট অক্ষত রেখে দুর্দান্ত একটি ক্লিনশিট উপহার দিয়েছেন মার্টিনেজ। এই জয়ের পর মার্টিনেজের সামনে এখন আরও একটি আবেগঘন ও বিশেষ মুহূর্ত অপেক্ষা করছে। আগামী মঙ্গলবার বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিতেই মূলত জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হবে মহাতারকা লিওনেল মেসিকে।

বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ম্যাচে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন মার্টিনেজ। যদিও ম্যাচে তাকে খুব একটা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। এমনকি বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার আগে তিনি পুরো ম্যাচে বল স্পর্শ করেছিলেন মোটে ১৭ বার। তবুও জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের নামের পাশে আরও একটি ক্লিনশিট যোগ করতে পারাটা তার কাছে সবসময়ই অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

মার্টিনেজ বলেন, ‘যদি জর্ডানের কথা বলেন, সে ম্যাচে আমার জালে বল ঢোকার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তারা তো আগের বিশ্বকাপে আমার বিপক্ষে গোল করেছিল, এমনকি মিসরও গোল করেছে। দিনশেষে যেকোনো প্রতিপক্ষই গোল করতেই পারে। তবে আমার কাছে দল বা প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, গোল হজম না করে ক্লিনশিট ধরে রাখাটা সব সময়ই দারুণ গর্বের।’

আর্জেন্টিনার জার্সিতে এখন পর্যন্ত মোট ৬৯টি ম্যাচ খেলেছেন মার্টিনেজ। যার মধ্যে প্রায় ৪৫টি ম্যাচেই কোনো গোল হজম করেননি তিনি। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিট রাখার রেকর্ডে এখন আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও ‘চিকিতো’ রোমেরোর চেয়ে মাত্র দুই ম্যাচ দূরে রয়েছেন দিবু। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতেই রোমেরোকে টপকে এই রেকর্ডটি নিজের একক দখলে নিয়ে নিতে পারেন তিনি।

এর আগে কিছুদিন ডেসপারেট হয়ে জাতীয় দল থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর মতো বড় একটা ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। তবে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ম্যাচের পর নিজের সেই কঠিন সিদ্ধান্ত বদলে ফেলার আসল কারণটিও সংবাদমাধ্যমের সামনে খোলাসা করেছেন তিনি।

এমি মার্টিনেজ বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে মানসিকভাবে গুছিয়ে নিতে বেশ কিছুটা সময় ভাবতে হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের মানসিক কষ্টটা আমার জন্য অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক ছিল। তাই মানসিকভাবে নিজেকে চাঙ্গা করতে সে সময় ক্লাব বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আর আলহামদুলিল্লাহ সেটি সফলও হয়েছে।

‘এখানে ফিরে এসে এখন বুঝতে পারছি, এটিই ছিল আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত। বর্তমানে আমি নিজেকে দলের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, ক্ষিপ্র ও দারুণ ফর্মে অনুভব করছি। দিনশেষে আমাকে আমার দেশ এবং পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করতে হবে এবং দেশের জন্য নিজের সেরাটা নিংড়ে দিতে হবে।’-যোগ করেন মার্টিনেজ।

এদিকে জাতীয় দলে বর্তমানে নিজের সিনিয়র ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে খুব একটা অহংকার করতে নারাজ মার্টিনেজ। বরং তরুণ প্রজন্মের নতুন খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপরই তিনি বেশি জোর দিয়েছেন।

দিবু বলেন, ‘আমাদের দলে এখন অনেক তরুণ খেলোয়াড় যোগ দিয়েছে এবং তারা পুরোনোদের জায়গা পূরণ করছে। ওটামেন্দি, লিও কিংবা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়ার মতো তারকারা আমাদের জন্য অনেক বড় বার্তা এবং এই দলের প্রতি তাদের অন্তহীন ভালোবাসা রেখে গেছেন। আমরা শুধু তাদের রেখে যাওয়া পথেরই নয়, পুরো দেশের কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন প্রদেশে যাই, তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে সময় কাটাই এবং তাদের প্রেরণা জোগাই।’

মার্টিনেজ যে আরও কিছু দিন আর্জেন্টিনার গোলবারের নিচে দাঁড়াতে চান সেটি জানিয়েছেন নিজের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টেও। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামতে দিন দিন আমার ভেতর ভালোবাসা আরও বেড়ে চলেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *