একসময় অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে অনেকেই ভয় পেতেন। সামাজিকভাবেও অভিনয় পেশাকে খুব একটা সম্মানের চোখে দেখা হতো না। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই বাস্তবতা। এখন অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়ে অনেক শিল্পীই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কেউ কিনেছেন ফ্ল্যাট, কেউ গাড়ি-বাড়ি করেছেন, আবার সন্তানদের পড়াচ্ছেন ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
অভিনয় পেশার এই পরিবর্তিত বাস্তবতা ও শিল্পীদের আর্থিক সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা আ খ ম হাসান। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ‘দ্য আরজে কিবরিয়া শো’-তে অতিথি হয়ে নিজের ক্যারিয়ার ও অভিনয় পেশার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তিনি।
আ খ ম হাসান জানান, বর্তমানে একজন শিল্পীকে এক ঘণ্টার নাটকে এক থেকে দুই দিনের কাজের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। তবে শিল্পীর জনপ্রিয়তা ও নাটকের দর্শকসংখ্যার ওপরও পারিশ্রমিক নির্ভর করে বলে জানান তিনি।
নিজের ক্যারিয়ারের আর্থিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে এই অভিনেতা বলেন, অভিনয় করেই তিনি ফ্ল্যাট, গাড়ি ও বাড়ি করেছেন। তার সমসাময়িক অনেক শিল্পীও অভিনয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের কেউ সন্তানদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন, কেউ গড়ে তুলেছেন নিজেদের সম্পদ।
অভিনয় পেশা নিয়ে অতীতের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও স্মরণ করেন আ খ ম হাসান। তিনি বলেন, ‘আগে নানা-নানীরা বলত, যাত্রা-অভিনয় করে ফাতরারা। এখন আর সেই দিন নাই।’
তার ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় পরিবর্তন। তৈরি হয়েছে নাটক, সিনেমা ও ওটিটিসহ কাজের নানা মাধ্যম। ফলে অভিনয় পেশায় সুযোগও বেড়েছে। ক্যারিয়ারের ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তার ব্যস্ততা বরং দিন দিন বাড়ছে বলে জানান এই অভিনেতা।
সম্প্রতি আ খ ম হাসান অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’ মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে। এতে সন্তানকে বাঁচাতে নিজের কিডনি হারানো এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
‘লাইফলাইন’ মুক্তির পর নিজের অভিনয় নিয়ে আ খ ম হাসান জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিচালক-প্রযোজকরা তাকে মূলত পরিচিত ধরনের চরিত্রেই কাজের সুযোগ দিতেন। ফলে নিজের পছন্দের চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ খুব একটা ছিল না।
তবে ‘লাইফলাইন’কে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে অভিনেতার ভাষ্য, ‘এই কাজটি দিয়ে আমার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হতেও পারে।’
নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও সিনেমাটি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন আ খ ম হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই জেনারেশনের প্রত্যেকটা সন্তানের ‘লাইফলাইন’ দেখা উচিত।’