পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ পারফরম্যান্স করে সেমিফাইনালে এসেছিল বাংলাদেশ এইচপি দল। ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াইয়ে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং ধসে হতাশ করলেন ব্যাটাররা। গুটিয়ে গেল ১০০ রান করেই। এই রানেও বোলাররা চেষ্টা করলেন ভালোই। খেলা নিয়ে গেলেন শেষ ওভারে। সুপার ওভারের আশাও জাগিয়েছিলেন। তবে সেটি আর হলো না। ভিক্টোরিয়া একাডেমি একাদশের কাছে এক উইকেটে হেরে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের গারডেনস ওভালে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৭.১ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ১০১ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভিক্টোরিয়া একাডেমি একাদশ।
ছোট এই পুঁজি নিয়ে ম্যাচ জেতা অসম্ভব মনে হলেও বল হাতে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দেন বোলার ও ফিল্ডাররা। বিশেষ করে মিস্ট্রি-স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল আবারও স্পিন ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন। এদিনও ১৫ রান খরচে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচ খেলে ২৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৫.৮২। এই আসরে ১৩টির বেশি উইকেট নেই অন্য কোনো বোলারের।
ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রুবেল বোল্ড করে দেন ওপেনার হ্যারি ডিক্সনকে। এরপর ছোট ছোট জুটিতে ভিক্টোরিয়া লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকলে শামীম হোসেন, আবু হায়দার, রিপন মণ্ডল ও রাকিবুল হাসানদের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় বাংলাদেশ। খেলা নিয়ে যায় শেষ ওভারে।
১৯তম ওভারের শেষ বলে স্কোরলাইন সমান হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১ রান প্রয়োজন ছিল ভিক্টোরিয়ার। শেষ ওভারে শামীম হোসেনের প্রথম বলে রান আউট হয়ে ফিরে যান টড মার্ফি। হাতে এক উইকেট তখন ভিক্টোরিয়ার। পরের দুই বলেও কোনো রান দেননি শামীম। ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়ায় কি না, তা নিয়ে তখন চরম উত্তেজনা।
তবে শামীমের চতুর্থ বলটিতে একটু জায়গা বানিয়ে কাভার দিয়ে চার মেরে নাটকীয়ভাবে দলের জয় নিশ্চিত করেন লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ড।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ফিরে গেলেও জুটি গড়েন আরেক ওপেনার জিসান আলম আর আরিফুল ইসলাম। দুজনই কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৪৯ রানে ১ উইকেট।
এরপরই বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের শুরু। ১০ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান আরিফুল। জিসানও এরপর আর বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারনেনি। ২০ বলে ৩০ রান করে আউট হন তিনি। পরের আর কোনো ব্যাটাররা দায়িত্ব নিতে পারেননি। বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১০১ রান করেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ এইচপি: ২০ ওভারে ১৪৩/৯ (সোহান ৩, জিসান ৩০, আরিফুল ১৯ সাব্বির ৫, ইরফান ০, শামীম ৮, রকিবুল ০, সাকলাইন ১০, আবু হায়দার ১২, রিপন ৬, রুবেল ৪*; হোকস্ট্রা ২-০-১৪-২, এলিয়ট ৩.১-০-১৪-২, সাদারল্যান্ড ৪-০-১৭-৪, সাইমন্স ২-০-১৭-০, মার্ফি ৩-০-১৪-২, স্টো ৩-০-১৩-০)।
ভিক্টোরিয়া একাডেমি: ১৯.৫ ওভারে ১০৫/৯ (রজার্স ১৮, ডিকসন ০, কেলাওয়ে ২৩, ম্যাকডোনাল্ড ১৫, সাদারল্যান্ড ১৬, ব্ল্যাকফোর্ড ১৯*, এলিয়ট ০, সাইমন্স ৬, হোকস্ট্রা ১, মার্ফি ১, স্টো ; রুবেল ৪-০-১৫-৩, আবু হায়দার ৪-০-৩০-১, রিপন ৪-২-১৬-১, শামীম ৩.৪-০-১৮-২, রকিবুল ৪-০-২৪-১)।
ফলাফল: ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন একাডেমি ১ উইকেটে জয়ী।