ইরানকে হারাতে ব্যর্থ হলে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টার

ইরানের নেতৃত্বকে প্রচলিত সামরিক পদ্ধতিতে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। এমন বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাস দমন উপদেষ্টা জো কেন্ট। গত মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতায় পদটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। খবর আরটির।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, পডকাস্টার টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জো কেন্ট এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। এর আগে গত এপ্রিলে তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ বেসামরিক পরিকাঠামো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুক্রবার টাকার কার্লসনের পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জো কেন্ট পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে বাস্তবসম্মত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন যখন কোনো সমাধানের পথ খুঁজছে, তখন এটি ঘটবে না বলে ভেবে নেওয়াটা বোকামি হবে। সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের লক্ষ্য অর্জনে ট্রাম্প ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জো কেন্টের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করে বর্তমান নেতৃত্বকে সরাতে চায়, তবে ট্রাম্পের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা রয়েছে। একটি হলো পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান পরিচালনা করা এবং অন্যটি হলো পারমাণবিক হামলা চালানো। তবে ইরানের বিশাল আয়তন ও জনসংখ্যার কারণে পূর্ণমাত্রার স্থল হামলা চালানো মোটেও সহজ বা সম্ভব নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ এভাবে দীর্ঘায়িত হতে থাকলে একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়বে। বিশেষ করে ইরানের পাহাড়ি এলাকায় থাকা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত বা সীমিত আকারের পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে।

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করেই ইরানে তাদের হামলা স্থগিত ঘোষণা করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মার্কিন বাহিনীর উচ্চনির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির কথা বলা হলেও ট্রাম্প ও পেন্টাগন তা অস্বীকার করেছে। তবে ট্রাম্প তার কৌশল বদলে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ নামে এক ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যার মধ্যে চীনের ২১টি প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যেসব দেশ বা সংস্থা ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বজায় রাখবে, তাদের মার্কিন ডলার সুবিধা থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করে একঘরে করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *