২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মন্তব্য করেছেন মেট্রোপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-এর সভাপতি কামরান টি. রহমান। বিশেষ করে কোনো ধরনের বড় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন অর্থবছরের ছয় লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ এবং এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার চাপে মাঠ পর্যায়ে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এমসিসিআই কার্যালয়ের এম. আনিস উদ দৌলা কনফারেন্স হলে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমসিসিআই, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)-এর যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সভায় দেশের বিশিষ্ট নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তবে এমন এক সময়ে এই বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে যখন বৈশ্বিক অর্থনীতি বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে বাংলাদেশের জন্যও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন বড় অগ্রাধিকার। প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায়ের চিত্র তুলে ধরে কামরান টি. রহমান জানান, বিদায়ী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ বা ৩.২৭ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পেরেছে, সেখানে নতুন অর্থবছরে ১৮.২ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি কোনো নির্দিষ্ট খাত বা বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে, করের আওতা (Tax Base) বাড়ানোর মাধ্যমে বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।
এমসিসিআই সভাপতি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধান অতিথি ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বেসরকারি খাতের এই উদ্বেগ ও বিবেচ্য বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথভাবে তুলে ধরবেন, যাতে করে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যসমূহ পূরণ করা সহজ হয়।