৯০ দিনের ঘড়ি চলছে, প্রথম সভায় নির্বাচনের রোডম্যাপ

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভাতেই নিজেদের অগ্রাধিকার ঠিক করে নিল বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি। সামনে ৯০ দিনের সময়সীমা, এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন। তাই সময় নষ্ট না করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকেই নিজেদের প্রথম কাজ হিসেবে দেখছে নতুন কমিটি। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরি, নিয়মিত ঘরোয়া লিগ এবং ফেডারেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পরিকল্পনাও এসেছে সভায়।

আজ তেজগাঁওয়ের বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত হয় অ্যাডহক কমিটির প্রথম সাধারণ সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

শুরুতেই হকির কিংবদন্তি আব্দুস সাদেকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সভায় উপস্থিত সদস্যরা। এরপর সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

সভায় আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বাংলাদেশের হকির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। পূর্ববর্তী সভাগুলোর কার্যবিবরণী অনুমোদনের পাশাপাশি ফেডারেশনের আগামী দিনের বাজেটও অনুমোদন করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল নির্বাচন ঘিরে। দায়িত্ব পাওয়ার পর নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে চায় কমিটি।

সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক জানালেন, সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘সরকার যখন আমাদের এই কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে, আমাদের ৯০ দিন সময়সীমা, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ২০-২৫ দিন চলে গেছে। তাই আমাদের কমিটির মধ্য থেকেই আমরা দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছি যে নির্বাচন কার্যক্রম যেন ৯০ দিনের মধ্যেই আমরা সুষ্ঠুভাবে করতে পারি, এটাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে চলছি।’

নির্বাচনের পাশাপাশি মাঠের হকিকেও নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এডহক কমিটি। তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তুলে আনতে গঠন করা হয়েছে ১২টি সাব-কমিটি। ঘরোয়া লিগগুলো নিয়মিত আয়োজনের বিষয়েও সভায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু নির্বাচন আয়োজন নয়, মাঠের কার্যক্রম সচল রাখাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন কমিটি।

সভার পরিবেশ ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ। সদস্যরা দেশের হকির মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। তাদের আলোচনায় উঠে আসে দীর্ঘমেয়াদে খেলোয়াড় তৈরির কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা।

নতুন কমিটির সামনে আপাতত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সময়ের। হাতে থাকা ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করার পাশাপাশি হকির ঘরোয়া কার্যক্রমও সচল রাখতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ২০-২৫ দিন ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছে। ফলে বাকি সময়টুকুতে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবে কতটা কাজ নামাতে পারে নতুন এডহক কমিটি, সেটিই এখন দেখার।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *