৫৪ রানের বাংলাদেশকে হালকা করে দেখছে না অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচের স্কোরকার্ডটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির হওয়ার কথা। ২৬৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪। ম্যাচও শেষ সোয়া দুই দিনে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানের হার। কিন্তু বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আসল পরীক্ষার আগে এই স্কোরকার্ডটাকেই বাংলাদেশের সামর্থ্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে নারাজ ট্রাভিস হেড।

তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং এক অর্থে দুই রকম ছবি দেখিয়েছে। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে ২৬৩ রান তুলেছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যাম্পবেল থমসনের পেস সামলাতে পারেনি কেউই। মাত্র একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা এই পেসারের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে ৫৪ রানে।

৯২ রানের লিড নিয়েই শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানে জিতে যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে এমন হার স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেওয়ার মতো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার হেড সেই ফল দিয়ে বাংলাদেশকে বিচার করছেন না।

আজ সোমবার অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলনের আগে তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচগুলো এমনই হয়ে থাকে। আমিও বছরের পর বছর ধরে এরকম কিছু বাজে ম্যাচ খেলেছি। এই ম্যাচগুলো সবসময়ই বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ মানসিকভাব হয়তো আপনি অন্য কোথাও মনোযোগ দিয়ে রেখেছেন।’

হেডের কথায় বরং প্রস্তুতি ম্যাচ আর মূল সিরিজের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য। তার ধারণা, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ইতিমধ্যে ডারউইনের সেই ম্যাচকে পেছনে ফেলে বৃহস্পতিবারের টেস্ট নিয়েই ভাবছে, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দলকে ছোট না করেই বলছি- বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা শুধু বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি নিয়েই ভাববে। এই ম্যাচ থেকে তাদের কী অর্জন করা দরকার সেটা নিয়ে চিন্তিত থাকবে। প্রথম ইনিংসে তারা ভালো খেলেছে, ২৭০-এর মতো রান করেছে। একজন সেঞ্চুরিও পেয়েছে। তাই বাইরে থেকে দেখতে ফলাফল যেমনই লাগুক না কেন, তারা হয়তো কিছুটা হতাশ হতে পারে, তবে দল হিসেবে ভেতর থেকে তারা শুধু বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি নিয়েই চিন্তা করছে।’

প্রস্তুতি ম্যাচের ফলের চেয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সই হেডের চোখে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মিরাজের সেঞ্চুরি সেখানে আলাদা করে নজর কেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের সামনে যে বাংলাদেশ নামবে, তাকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলের সঙ্গে এক করে দেখছে না অস্ট্রেলিয়া।

এই সিরিজে দুই দলের ব্যবধানের আরেকটি দিক হলো পরিচিতি। প্রায় ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় লাল বলের ক্রিকেট খেলেছিল তারা। আর দুই দল সর্বশেষ টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৭ সালে।

গত জুনে অবশ্য ওয়ানডে সিরিজে দেখা হয়েছিল দুই দলের। কিন্তু সেই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ছিলেন না। ফলে বাংলাদেশের বর্তমান টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ার কাছেও অনেকটা নতুন প্রতিপক্ষ।

সেই অচেনা বাংলাদেশকে বুঝতে অস্ট্রেলিয়ার ভরসা বিশ্লেষণ আর ভিডিও ফুটেজ। হেড বলেন, ‘আমাদের অ্যানালিস্ট খুবই দক্ষ। আমরা প্রচুর ভিডিও ফুটেজ পাই। আমাদের রিসোর্সের কোনো কমতি নেই। তাই আগামী কয়েক দিনে উইকেট দেখে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া ও সামনে কী আসতে পারে বা আমরা কীসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, তা নিয়ে কাজ করাটাই মূল বিষয়।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজকে অবশ্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আর দশটি সিরিজের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছেন হেড, ‘আমি যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার ধারা বজায় রাখতে চাই। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও সব মিলিয়ে প্রতিটি সিরিজই সমান গুরুত্বপূর্ণ, তাই আপনাকে খেলার জন্য এবং ভালো খেলার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’

১৩ আগস্ট ডারউনেই শুরু হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *