যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর চাকরির সুযোগে আসছে নতুন নীতিমালা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর সেখানে কাজের সুযোগ পেতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ১ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা) ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ‘অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং’ (ওপিটি) নামক ওয়ার্ক পারমিট নেওয়ার ক্ষেত্রে এই ফি যুক্ত করার প্রস্তাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

বর্তমানে ওপিটি ব্যবস্থার অধীনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষ করার পর আলাদা কাজের ভিসা ছাড়াই এক বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি পান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) খাতের গ্র্যাজুয়েটরা এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরও দুই বছর অর্থাৎ মোট তিন বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ পান। এই প্রক্রিয়াই মূলত বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন ও পরবর্তীতে এইচ-১বি কাজের ভিসায় স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার নতুন আবেদনের ওপর ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের চেষ্টা করেছিল, যা বোস্টনের একটি মার্কিন আপিল আদালত আটকে দেয়। এরপরই ওপিটি ব্যবস্থার ওপর এই চড়া ফি আরোপের নতুন আলোচনা শুরু হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা। কেবল ভারতেরই তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত, যাদের একটা বড় অংশই ঋণ নিয়ে পড়াশোনা করতে যান এবং ওপিটির মাধ্যমে তা পরিশোধের পরিকল্পনা করেন। ফিটি আরোপিত হলে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে কানাডা, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *