ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটনশিল্পে ধস, ফাঁকা রিসোর্ট

রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে কার্যত ভেঙে পড়েছে দেশটির একসময়ের জমজমাট পর্যটন শিল্প। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এবার হোটেল বুকিং কমেছে ৭০ শতাংশেরও বেশি।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বার্তা সংস্থা এএফপির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষ্ণসাগর তীরের দক্ষিণ উপকূলীয় অবকাশযাপন কেন্দ্র সিমেইজসহ পুরো ক্রিমিয়ায় এখন পর্যটকের আকাল। একসময় দৈনিক ৪০০টি পর্যন্ত আইসক্রিম বিক্রি করা স্থানীয় ব্যবসায়ী আনাতোলি এএফপিকে বলেন, এ মৌসুমে আমরা চরম লোকসানে পড়েছি। বলতে গেলে ব্যবসার কোনো মৌসুমই আর অবশিষ্ট নেই।

সম্প্রতি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার মূল বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলো অচল হয়ে পড়ায় সেভাস্তোপোলসহ বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তেল ডিপোতে হামলার পর জ্বালানি বিক্রি স্থগিত করায় এবং পেট্রলের দাম চড়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও কর্মীদের ধরে রাখতে রুশ সরকার পর্যটন খাতের জন্য প্রায় ৪৩০ কোটি রুবল (৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার) এককালীন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে, যা ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিলাসবহুল হোটেলগুলো ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েও পর্যটক পাচ্ছে না। হোটেলের সুইমিং পুল, রোদে রোদ পোহানোর চেয়ার ও রেস্তোরাঁগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ক্রিমিয়ার অভ্যন্তরীণ সড়কপথে ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকায় বর্তমানে রাশিয়া থেকে কের্চ সেতু হয়ে ট্রেনেই কেবল কিছু পর্যটক যাতায়াত করছেন।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকে লাখ লাখ রুশ নাগরিক সেখানে ছুটি কাটাতে আসতেন। তবে ইউক্রেনের বর্তমান ড্রোন হামলায় সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলেও মস্কোকে শান্তি আলোচনায় চাপ দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *