যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওপর কেন আস্থা হারাচ্ছেন রিপাবলিকান নেতারা?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের আস্থা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধ, পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ছাঁটাই ও হেগসেথের অদক্ষ পরিচালনার কারণে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

রিপাবলিকান নেতাদের অসন্তোষের প্রধান কারণ

দীর্ঘায়িত ইরান যুদ্ধ : দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ইরান যুদ্ধ মাসের পর মাস গড়িয়ে চলায় কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ দেখা যাচ্ছে না। এতে বিপুল সামরিক ব্যয় ও অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় পেন্টাগন ও সিনেটে হেগসেথের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত : পেন্টাগনের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ জেনারেলদের কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়ার নীতিতে ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতারা। এছাড়া পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও জেনারেল ক্রিস্টোফার লানেভকে সেনাপ্রধান হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বদলের ভেতরেই তীব্র আপত্তি উঠেছে।

অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ঘাটতি : সিনেটর থম টিলিস সরাসরি হেগসেথের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় হেগসেথ পেন্টাগনের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করছেন, যা প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।

বাজেট ও নীতিগত জটিলতা : পেন্টাগনের এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট প্রস্তাব এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনেটর মিচ ম্যাককনেল। পাশাপাশি ন্যাটোসহ ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনকেও নেতিবাচক চোখে দেখা হচ্ছে।

বিতর্কিত ও আইনি পদক্ষেপ : দায়িত্ব পালনের শুরুতে গোপনীয় তথ্য ফাঁস এবং ক্যারিবীয় ও ভেনেজুয়েলার জলসীমায় বেসামরিক নৌকায় হামলার নির্দেশের আইনি ভিত্তি না দেখাতে পারায় হেগসেথ আইনি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন।

টেলিভিশন উপস্থাপক থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়া হেগসেথকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুগত মনে করে দায়িত্ব দিলেও, তাঁর ধারাবাহিক অদক্ষ সিদ্ধান্ত ও কৌশলগত ব্যর্থতার কারণে এখন স্বদলের আইনপ্রণেতারাই প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *