ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি আবাসিক ভবনের ভাড়া বাসা থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলামের (৩৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শেখ রাজু ইসলাম সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামের নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। তিনি গোপালগঞ্জ সদরে কর্মরত থাকলেও তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার ভাঙ্গার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তিনি ছুটির দিনে ভাঙ্গার ওই বাসায় পরিবারের সাথে সময় কাটাতে আসতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটিতে শুক্রবার রাজু ইসলাম স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে আসেন। শনিবার দুপুরে তার স্ত্রী স্কুলে থাকা অবস্থায় চার বছরের ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার দেখতে পায় তার বাবা পাশের রুমে ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে ঝুলছেন। আমেনা জানায়, তার বাবা আগে তার পাশেই শুয়ে ছিলেন, পরে হঠাৎ পাশের রুমে গিয়ে এই ঘটনা ঘটান।
রাজুর স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১টার দিকে বাসায় ফোন করলে মেয়েরা তাকে বিষয়টি জানায়। পরে তিনি দ্রুত বাসায় এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। নিহতের যমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাকও মায়ের ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।