দেবে গেছে সেতুর একাংশ, ঝুঁকিতে ৩০ হাজার মানুষ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নে জামছড়ি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর একটি অংশ দেবে যাওয়ার পাশাপাশি পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষ এবং শত শত যানবাহন এই জরাজীর্ণ সেতুটি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরম্বা ইউনিয়নের আতিয়ারপাড়া, বাইয়ারপাড়া, পদ্মাশীখিল, মজিদারপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী পার্বত্য বান্দরবানের টংকাবতী ইউনিয়নের কয়েকটি পাড়ার প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সেতু। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্তত আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহণে কৃষকরাও এই নড়বড়ে সেতুর ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর এমনটি হলে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালে এলজিইডি ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি নির্মাণ করেছিল। 

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, সেতুটি পার হওয়ার সময় দেবে যাওয়া অংশ দেখে মনে হয়, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।

চরম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম জানায়, ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন তাদের এই সেতু দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়।

চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ হোসেন জানান, সেতুটি অনেক পুরোনো, দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। বিষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। 

লোহাগাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *