বিশ্বকাপ অভিযানে শুরুটা ভালো না হলেও পরের দুই ম্যাচে ব্রাজিলিয় সাম্বা ছন্দেই নেচেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপসেরা হয়ে জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে ভুল করার কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্বকাপের নকআউটে পর্বে ব্রাজিলের প্রথম পরীক্ষা এশিয়ান পরাশক্তি জাপাানের বিপক্ষে। আগামীকাল সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল আর জাপান।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে ব্রাজিল। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোলে সেলেসাওরা এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, চলতি বছরে খেলা সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। সব মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ ধরে অপরাজিত কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। অন্যদিকে, সুইডেনের সাথে ১-১ ড্র করে নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারা ১০ ম্যাচে নিয়ে এসেছে জাপান।
জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের মুল লক্ষ্য শেষ ষোলো নিশ্চিত করা। তবে এর বাইরে সেলেসাওদের জন্য এটি প্রতিশোধের মঞ্চও। এমনিতে জাপানের চেয়ে শক্তি-সামর্থ কিংবা অতীত পরিসংখ্যানে অনেক অনেকে এগিয়ে ব্রাজিল। তবে দুই দলের সর্বশেষ দেখাটা সুখকর হয়নি ব্রাজিলের জন্য। এশিয়া সফরে এসে হেরে বসেছিল জাপানের বিপক্ষে।
গত অক্টোবরে টোকিওতে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে জাপানের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। তাই সোমবারের ম্যাচটি সেলেসাওদের জন্য হারের প্রতিশোধ নেওয়ারও বড় মঞ্চ। সেই ম্যাচে জাপানের হয়ে গোল করেছিলেন মিনামিনো, নাকামুরা ও উয়েদা। এবার সেই জাপানি দুর্গ ভাঙার লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন ভিনিসিয়াস-নেইমাররা।
চলতি বিশ্বকাপে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। চার গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় ওপরের দিকেই আছেন তিনি। অন্যদিকে, জাপানের আক্রমণভাগের মূল শক্তি দাইচি কামাদা এবং আয়াসে উয়েদা। এছাড়াও মায়েদা, মিনামিনো কিংবা নাকামুরার মতো খেলোয়াড়রা যেকোনো সময় যেকোনো রক্ষণভাগকে ধসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেশ ধারাবাহিক। গত ছয় ম্যাচে ব্রাজিল ১৮ গোল করেছে, যার ১০টিই এসেছে প্রথমার্ধে। অন্যদিকে, জাপান গত ছয় ম্যাচে ১০ গোল করলেও হজম করেছে মাত্র ৩টি। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, জাপানের শেষ ছয় ম্যাচের প্রতিপক্ষরা প্রথমার্ধে কোনো গোলই করতে পারেনি, যা ব্রাজিলের আক্রমণভাগের জন্য বড় এক পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।