বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের আগে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল সম্ভাব্য ম্যাচ ফিক্সিং বা সমঝোতার ফল নিয়ে। গ্রুপের সমীকরণ এমন ছিল যে ৩-৩ গোলে ড্র হলেই দুই দলই নকআউট পর্বে উঠে যেত। সেই কারণেই ১৯৮২ বিশ্বকাপের কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিজন’-এর পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা সামনে এনে শুরু হয় ব্যাপক জল্পনা। অবাক করা ব্যাপার, ম্যাচ শেষ হয়েছে ৩-৩ সমতাতেই!
১৯৮২ সালে পশ্চিম জার্মানির কাছে অস্ট্রিয়ার ১-০ গোলে হারের ফলে দুই দলই পরের পর্বে উঠেছিল। আর গোল ব্যবধানে বিদায় নিতে হয়েছিল আলজেরিয়াকে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত সেই ম্যাচের স্মৃতি টেনে এবারও প্রশ্ন উঠেছিল, অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া কি সমীকরণ মাথায় রেখে খেলবে?
শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতের বহুল আলোচিত ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়। ফলে দুই দলই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। ম্যাচের ফল নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও দুই দলের কোচের ম্যাচ পরবর্তী বার্তা ছিল স্পষ্ট— তারা কোনো সাজানো চিত্রনাট্যের অংশ ছিলেন না।
৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের পর অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক বলেন,—‘আমি ৪০ বছর ধরে কোচিং পেশায় আছি। আমার মনে পড়ছে না কোনো ম্যাচে এমন নাটক হয়েছে। তিন মিনিট বাকি থাকতে যদি কাউকে বলতেন এমন কিছু হবে, তাহলে আপনাকে পাগল বলত লোকে। সবাই হয়তো ০-০ বা ১-১ ড্র হবে এমন কিছু ভেবেছিল, কিন্তু ৩-৩ ড্র অবিশ্বাস্য। নিশ্চয় ৯৩ মিনিটে দুই দল মিলে ঠিক করেনি, চল, আমরা আরেকটা করে গোল করি।’
আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ বলেন, ‘এই ম্যাচে জয় হয়েছে ফুটবলের। আমি খুশি যে এই ম্যাচে ফুটবল জিতেছে। ৩-৩ গোলের ড্র-ই সেটি বলে দিচ্ছে।’