তারকাদের লাইফস্টাইল যতটা ঝলমলে, আড়ালের বাস্তবতা অনেক সময় ততটাই কঠিন। আলো, ক্যামেরা আর অ্যাকশনের পেছনে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য চাপ, ভয় আর যন্ত্রণা। বলিউড ভাইজান সালমান খানের সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা যেন সেই বাস্তবতারই এক নির্মম উদাহরণ।
২০২৪ সালে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা বাবা সিদ্দিকিকে হারিয়েছিলেন সালমান খান। গুলি করে খুন করা হয়েছিল বাবা সিদ্দিকিকে, যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। সেই সময় সালমান খানও একাধিক প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন, ফলে তাঁকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই থাকতে হচ্ছিল।
এরই মধ্যে চলছিল তাঁর বহুল আলোচিত সিনেমা সিকান্দারের শুটিং। শুধু মানসিক চাপই নয়, পাঁজরের চোটের সমস্যাও ছিল অভিনেতার। সম্প্রতি দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সহ-অভিনেতা বিশাল বশিষ্ঠ সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন।
বিশাল বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে সিকান্দার সিনেমার শুটিং করছিলাম, বিশেষ করে সালমান খান। এটা কোনো গোপন বিষয় নয়। সেই সময় তিনি মানসিকভাবে ভীষণ চাপে ছিলেন। শারীরিকভাবেও নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা নিজের চোখে দেখেছি—এটা কোনো বানানো গল্প নয়, একেবারে সত্যি।’
তিনি আরও জানান, সালমান খান ধীরে ধীরে হেঁটে কোনোভাবে দৃশ্যের শুটিং শেষ করতেন। পরিচালক ‘কাট’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফিরে গিয়ে ফিজিওথেরাপি নিতেন। তাকে চলাফেরা চালিয়ে যেতে হত, কারণ সামনে অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং ছিল।
ভাইজানের কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে বিশাল বলেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারি না, পর্দার আড়ালে তার জীবনে কী চলছিল। তবুও তিনি শুটিং বন্ধ করেননি। এত বছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পরও তিনি নিজের কাজের প্রতি একইরকম নিবেদিত ছিলেন। তিনি ব্যথার মধ্যে ছিলেন, তবুও কাজ করে গিয়েছেন। বাইরে প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল, তবুও সেটে আসতেন। সত্যিই এটা খুব কঠিন ছিল।’
প্রসঙ্গত, বিশালের এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন সিনেমার পরিচালক এআর মুরগাদোস দাবি করেছিলেন যে ‘সিকান্দার’-এর শুটিং যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। তার মতে, সালমান খান প্রায়ই সেটে দেরিতে পৌঁছাতেন, যার ফলে পুরো ইউনিটকে শিডিউল বদলাতে হতো এবং অনেক সময় দিনের শুটিং রাতের বেলায় করতে হয়েছে। তবে বিশালের বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই সময় অভিনেতার শারীরিক ও মানসিক সংগ্রামের অন্য একটি দিক।