পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় থানা সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। নিহতদের মধ্যে আটজনই পুলিশ সদস্য।
আজ রোববার (২ আগস্ট) নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে থানার কাছের ব্যস্ততম মোড়ে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।
সোয়াত জেলার উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ফিদা হোসেন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আত্মঘাতী এই হামলায় আটজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন হামলাকারীর ক্ষতবিক্ষত দেহাবশেষও উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফিদা হোসেন বলেন, আত্মঘাতী হামলাকারী মোড়ে অবস্থিত থানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মূল ফটকেই সতর্ক পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকে দিলে সে বিস্ফোরণ ঘটায়।
খাইবার পাখতুনখোয়া আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী একটি এলাকা, যেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছ নিরাপত্তা বাহিনী। প্রাথমিক অবস্থায় কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
তবে একই দিনে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে হাতে তৈরি বোমার (আইইডি) বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান এএফপিকে জানান, ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে টিটিপি।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, চলতি বছরে এ পর্যন্ত জঙ্গি হামলা এবং এর জবাবে চালানো বিভিন্ন অভিযানে মোট ৮১৯ জন সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সীমান্তবর্তী এই প্রদেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার জন্য পাকিস্তান সরাসরি প্রতিবেশী আফগানিস্তানকে দায়ী করে আসছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। গত জুনেও আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান বিমান হামলা চালায়, যাতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে তালেবান সরকার ও জাতিসংঘ জানিয়েছিল।