যুক্তরাজ্যের লিখিত সংবিধানের পক্ষে সমর্থনের কথা জানালেন বার্নহাম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দেশটির জন্য একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়নের পক্ষে তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে লিখিত সংবিধান থাকলেও যুক্তরাজ্যের কোনো একক বা প্রামাণ্য সাংবিধানিক দলিল নেই।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ বা হস্তান্তরকে তার প্রশাসনের অন্যতম মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

গত সপ্তাহের শেষে নিজের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা সম্পর্কে অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ‘দিনশেষে আমি মনে করি, এটি একটি নতুন সাংবিধানিক বন্দোবস্তের দিকেই আমাদের পথকে নির্দেশ করছে।’

দেশ কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত সে সম্পর্কে নতুন ও স্পষ্ট নীতিমালা থাকার ওপর জোর দিয়ে অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, একটি লিখিত সংবিধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং এই দাবিটি তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই করছিলেন।

অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ‘মানুষকে তার মৌলিক বিষয়গুলোর অভাব পূরণের জন্য লড়াই করতে দেওয়াটা ঠিক নয়… আর আমাদের সংবিধান না থাকার কারণে এই ধরনের পরিস্থিতিতে কিছু কিছু এলাকা তাদের পাওনা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।’

বিশ্বের অধিকাংশ দেশে লিখিত সংবিধান থাকলেও ব্রিটেনের কোনো লিখিত সংবিধান নেই; এর পরিবর্তে দেশটি বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ আইন, সাধারণ আইনের অধীনে বিচারিক রায় এবং পারস্পরিক চুক্তির একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়নের দাবিটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থাকা লেবার পার্টির নেতা গর্ডন ব্রাউন এই আমূল পরিবর্তনের প্রাথমিক সমর্থকদের একজন ছিলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে, অ্যান্ডি বার্নহাম তৎকালীন গর্ডন ব্রাউন সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

একটি সংসদীয় কমিটি পাঁচ বছর মেয়াদী পর্যালোচনার মাধ্যমে সংবিধান কোডবদ্ধকরণ বা বিন্যস্ত করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প বিষয় বিবেচনা করেছিল। তবে লিখিত সংবিধানের জন্য কোনো স্পষ্ট ঐকমত্য ছাড়াই ২০১৫ সালে এই তৎপরতা থেমে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের পক্ষে সংবিধানকে কোডবদ্ধ করার যেকোনো গুরুতর পদক্ষেপ হবে বহু বছর মেয়াদী একটি প্রক্রিয়া, যার জন্য সম্ভবত একটি গণতদন্ত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ব্যাপক পরামর্শ বা আলোচনার প্রয়োজন হবে।

গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক মেয়রদের নিজ নিজ এলাকা থেকে সংগৃহীত করের একটি অংশ রাখার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। চরমভাবে কেন্দ্রশাসিত এই দেশটির রাজধানী লন্ডন থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি এ পদক্ষেপ নেন।

ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড নিয়ে গঠিত যুক্তরাজ্য ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে উল্লেখযোগ্য সাংবিধানিক সংস্কার দেখেছিল, যার মাধ্যমে এডিনবরা, কার্ডিফ এবং বেলফাস্টে স্বায়ত্তশাসিত বা বিকেন্দ্রীকৃত পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছিল।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে কিছু আঞ্চলিক মেয়র পদ এবং অন্যান্য সংস্থা তৈরি হওয়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ড নিজেই ইউরোপের অন্যতম সর্বাধিক কেন্দ্রশাসিত একটি রাষ্ট্র হিসেবে রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *