জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের ন্যায় বাংলাদেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে সরকার।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার আয়োজনে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও জনগণের সম্পদ লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অতীতে যারা ব্যাংক লুট, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, শুধু তাদের হাতবদল হয়েছে, সমস্যার সমাধান হয়নি। এসবের জবাব জনগণ যথাসময়ে দেবে।
নারায়ণগঞ্জকে চাঁদাবাজ ও অসৎ নেতৃত্বমুক্ত, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাশীল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সৎ, যোগ্য ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় তিনি অনির্বাচিত প্রশাসক অপসারণ করে দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুদের অবদানকে অবমূল্যায়ন বা উপহাস করা হলে তা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। তাদের ত্যাগকে কখনো খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
নির্বাচন ও গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি অভিযোগ তুলে তিনি জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারে না।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, একদলীয় শাসন কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি অতীতে আওয়ামী লীগ চালু করেছিল। এখন সেই একই ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না। তরুণ প্রজন্ম বিভাজনের রাজনীতি নয়, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব দেখতে চায় বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বড় বাজেট দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, তবে সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে যেভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট হয়েছে, সেই পথ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে না।
বক্তব্য শেষে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।