দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি পেল মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মিত সিনেমা ‘রইদ’। প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা হিসেবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনপিআরের রিভিউয়ের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকাজুড়ে এনপিআরের এক হাজারের বেশি স্টেশনে সিনেমাটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ‘রইদ’-এর পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে বায়োস্কোপ ফিল্মস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ৫৫তম আন্তর্জাতিক পরিবেশনা হিসেবে সিনেমাটি উত্তর আমেরিকার একাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিয়েছে। এনপিআরের রিভিউয়ের জন্যও বায়োস্কোপ ফিল্মসের মাধ্যমেই সিনেমাটি জমা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্কার, বাফটাসহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় একটি সিনেমার আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ও সমালোচকদের আলোচনায় আসা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই বিবেচনায় এনপিআরের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের রিভিউ তালিকায় ‘রইদ’-এর অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের সিনেমার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
এনপিআর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পাবলিক রেডিও নেটওয়ার্ক। দেশজুড়ে তাদের এক হাজারের বেশি স্টেশন রয়েছে। বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের বিভিন্ন সিনেমা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা ও পর্যালোচনা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। সিনেমার বিষয়বস্তু, নির্মাণশৈলী ও সামগ্রিক উপস্থাপনা মূল্যায়নের পরই রিভিউয়ের জন্য কোনো সিনেমা নির্বাচন করা হয়।
বায়োস্কোপ ফিল্মসের কর্ণধার রাজ হামিদ বলেন, ‘প্রতিবছরই আমরা একটি বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতির পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। এই পথ সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। ধাপে ধাপে বাংলা সিনেমাকে বিশ্বের বড় প্ল্যাটফর্মে পৌঁছে দিতে চাই। ‘রইদ’ নিয়ে আমেরিকার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এই নির্বাচন আমাদের জন্য বড় অর্জন।’
নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন বলেন, ‘সিনেমাটি নির্মাণ করেছি ভালোবাসা আর মমতা থেকে। এরপর এটি ধীরে ধীরে দর্শকের কাছে পৌঁছেছে। একজন নির্মাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যমে একটি বাংলাদেশি সিনেমা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হবে—এটি অবশ্যই আনন্দের।’
‘রইদ’ সিনেমার প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে রয়েছেন গাজী রাকায়েত। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বঙ্গ ও ফেসকার্ড।