সরকারি অনুদানে সিনেমা নির্মাণের ক্ষেত্রে সাধারণত অভিযোগ ওঠে নির্মাতাদের বিরুদ্ধে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা কিংবা অনুদানের অর্থ পাওয়ার পরও প্রকল্প ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা নতুন নয়। তবে এবার অভিযোগের তীর উল্টো দিকে। অনুদানপ্রাপ্ত কয়েকজন নির্মাতার দাবি, সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় আটকে গেছে তাঁদের সিনেমার কাজ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান পাওয়া কয়েকটি প্রকল্পের শুটিং এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অনুদান ঘোষণার এক বছরের কাছাকাছি সময় পার হলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় নির্মাতারা কাজ এগিয়ে নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
নির্মাতাদের ভাষ্য, গত বছরের জুলাইয়ে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরে প্রথম কিস্তি হিসেবে মোট অনুদানের ২০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। সেই অর্থ হাতে পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও শুটিং পরিকল্পনা জমা দেন তাঁরা। আশা ছিল দ্রুত দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়া যাবে। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আর কোনো অর্থ ছাড় হয়নি।
এ নিয়ে চলতি বছরের মার্চে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে নিজেদের উদ্বেগ জানান চার নির্মাতা—গোলাম সোহরাব দোদুল, আলভী আহমেদ, সিংখানু মারমা ও জগন্ময় পাল। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করার পরও অনুদানের পরবর্তী অর্থ না পাওয়ায় প্রকল্পগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
নির্মাতারা জানান, গত ডিসেম্বরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভায় তাঁরা নিজেদের সিনেমার শুটিং পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা সেই পরিকল্পনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের পরও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ফলে অনেক প্রযোজক শুটিং শুরু করেও মাঝপথে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন শিডিউল তৈরির মতো পরিস্থিতিও নেই। শুধু নির্মাতারাই নন, অপেক্ষায় আছেন গল্পকার ও চিত্রনাট্যকাররাও। কারণ তাঁদের জন্য নির্ধারিত উৎসাহ ভাতাও এখনো পরিশোধ করা হয়নি।
নির্মাতা গোলাম সোহরাব দোদুল বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল অক্টোবরের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। পরে জানানো হয় নির্বাচন শেষে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাই। এরপর আরও কয়েকজন নির্মাতা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো উত্তর পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে বিরোধে যেতে চাই না। শুধু জানতে চাই, সমস্যা কোথায়। যদি কোনো কারণে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হয়, সেটি আমাদের জানানো হোক। কারণ নিয়ম অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও যখন কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া অপেক্ষা করতে হয়, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই হতাশার জন্ম দেয়।’
নির্মাতাদের অভিযোগ, অনুদানভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়, তা মেনে চলার চাপ সবসময় তাঁদের ওপর থাকে। কিন্তু অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে একই ধরনের জবাবদিহি না থাকায় প্রকল্পগুলো অনিশ্চয়তায় পড়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুত বিষয়টির সমাধান এবং বকেয়া অর্থ ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।