কিছু প্রতিপক্ষ কেবল একটি ম্যাচের নাম নয়, তারা হয়ে ওঠে একটি কিংবদন্তির জন্মের সাক্ষী! আর্জেন্টিনার কাছে মিশর ঠিক তেমনই এক নাম। ২১ বছর আগে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেদিনই এসেছিল তার প্রথম বিশ্বকাপ গোল, আর সেই গোল থেকেই শুরু হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ক্যারিয়ারের মহাকাব্য।
আজ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও মিশর। বর্তমানের লড়াইয়ের আগে তাই ফিরে আসছে ২০০৫ সালের সেই স্মরণীয় রাত, যেদিন তরুণ এক মেসি প্রথমবার বিশ্বকাপে নিজের ছাপ রেখে জানান দিয়েছিলেন, তিনি এসেছেন দীর্ঘ পথ চলার জন্য।
যদিও আর্জেন্টিনার সেই আসর শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। প্রথম ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্ময়বালক ফ্রেডি আডু। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এমএলএসে অভিষেক হওয়া এই ফুটবলারকে অনেকেই তখন ‘নতুন পেলে’ বলে ডাকতে শুরু করেছিলেন। অন্যদিকে বার্সেলোনার জার্সিতে খেলা শুরু করলেও মেসি তখনও ছিলেন সম্ভাবনাময় এক কিশোর প্রতিভা। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমেও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি।
তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই বদলে যায় দৃশ্যপট। মিশরের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে সুযোগ পান মেসি। ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে বোকা জুনিয়র্সের হুলিও বারোশোর ক্রস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। পরে পাবলো জাবালেতার আরেক গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা এবং নকআউটে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে মেসিকে তুলে নামানো হয়েছিল লুকাস বিগলিয়াকে।
সেই প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার মাত্র আড়াই সপ্তাহের মধ্যেই বদলে যায় পুরো গল্প। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল এবং সর্বোচ্চ ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট-দুটি পুরস্কারই নিজের করে নেন মেসি। ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল, সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিপক্ষে আরেকটি গোল-সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পথে হয়ে ওঠেন সবচেয়ে উজ্জ্বল নায়ক।
আজকের মেসি আর ২১ বছর আগের সেই তরুণ মেসি এক নন। এখন তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ফুটবলারদের একজন। তবু মিশরের নাম শুনলেই হয়তো তার মনে ভেসে ওঠে সেই প্রথম গোলের মুহূর্ত, যে গোলটি শুধু একটি ম্যাচ জেতায়নি, শুরু করেছিল ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়!
এসএন/পিডিকে