ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ যাত্রার সমাপ্তি শুধু পর্তুগাল সমর্থকদেরই নয়, মন ভেঙে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমার আইশোস্পিডেরও (ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র)। স্পেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে পর্তুগালের ১-০ গোলের নাটকীয় হারের পর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি রোনালদোর এই অন্ধভক্ত।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বসে পুরো ম্যাচজুড়ে রোনালদোকে সমর্থন করেন স্পিড। কিন্তু যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হতেই স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। লাইভস্ট্রিমেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা জনপ্রিয় এই লাইভস্ট্রিমার ভাঙা কণ্ঠে স্পিড বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ওরা বিশ্বকাপ জিতবে। আল্লাহর কসম, আমি সত্যিই তাই বিশ্বাস করেছিলাম।’ এরপর নিজের হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি দোয়া করেছি, বারবার দোয়া করেছি। কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’
৪১ বছর বয়সী রোনালদোর এটি ছিল শেষ বিশ্বকাপ। তাই এই হার স্পিডের কাছে ছিল কেবল একটি ম্যাচে পরাজয় নয়, বরং নিজের প্রিয় ফুটবলারের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য।
তবে নাটক শেষ হয়নি মাঠে। স্টেডিয়াম ছেড়ে বের হওয়ার সময় এক সমর্থক মেসির জার্সি পরে স্পিডকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে ‘মেসি, মেসি’ বলে চিৎকার করেন। মুহূর্তেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সমর্থকের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন স্পিড। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আগেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটকে সরিয়ে নিয়ে যান। পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই রোনালদো-মেসি বিতর্ককে নিজের কনটেন্টের বড় অংশ বানিয়েছেন আইশোস্পিড। তাই রোনালদোর বিদায়ের মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের এমন উসকানি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেন, ‘এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে কষ্ট হচ্ছে। তবে আমি শান্ত মনে মাঠ ছাড়ছি। ফুটবলের জন্য যা দেওয়ার ছিল, আমি সবই দিয়েছি। এটাই একজন ফুটবলারের জীবন-সামনে এগিয়ে যেতে হয়।’
স্পেনের কাছে সেই ০-১ গোলে হারের মধ্য দিয়েই শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায়। আর সেই বিদায়ের সাক্ষী হয়ে, অশ্রুসিক্ত চোখে স্টেডিয়াম ছাড়লেন তার সবচেয়ে আলোচিত সমর্থক আইশোস্পিড!
এসএন/পিডিকে