থাইল্যান্ড থেকে ভারতে আসার পথে মাঝআকাশে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট। উড়োজাহাজটির পাইলটের বিরুদ্ধে উঠেছে মাদক বা গাঁজা (পট) সেবনের অভিযোগ। পরবর্তীতে পরিচালিত দুটি ডোপ টেস্টেই তার শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজার অস্তিত্ব ধরা পড়েছে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে, থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এআই-২৩৭৯ নম্বর উড়োজাহাজটিতে এ ঘটনা ঘটেছে। মাঝআকাশে হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় উড়োজাহাজটিতে তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হয়। এতে অন্তত ২০ জন যাত্রী ও চারজন কেবিন ক্রু মারাত্মক আহত হন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ উড়োজাহাজটি উচ্চতা হারানোর পর যখন ককপিটের ‘স্টল ওয়ার্নিং’ অ্যালার্ম বেজে ওঠে, তখন প্রধান পাইলটকে ককপিটের মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে অবতরণের পর ওই পাইলট স্বাভাবিকভাবে উঠে দাঁড়াতেও পারছিলেন না। তাকে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (এএআইবি) কর্মকর্তার সহায়তায় বসাতে হয়। প্রস্রাবের নমুনা প্রদানকালে শারীরিকভাবে সাহায্য করতে হয়। এমনকি ফ্লাইটের একজন কেবিন ক্রুও ওই পাইলটের বিরুদ্ধে বিমানে গাঁজা সেবনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, থাইল্যান্ডে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের বিরতির (লে-ওভার) সময় পাইলট কেবিন ক্রুদের নিয়ে এক নৈশপার্টিতে অংশ নেন। তার আগে দিল্লি থেকে যাওয়ার পথে ককপিটের সিট ব্যবহারে ভুল করায় এক ক্রু সদস্যকে তিনি গালমন্দ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতেই ওই পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল।
ঝাঁকুনির পর আহতদের দেখতে উড়োজাহাজটির কেবিনে আসার সময় ওই পাইলটের এক পায়ে জুতো বা মোজা ছিল না। তিনি যাত্রীদের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে নিষেধ করেন। গত ৪ আগস্ট ১৩৭ জন যাত্রী ও আটজন ক্রু নিয়ে উড়োজাহাজটি ফুকেত থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল। বর্তমানে এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) ককপিটের দুই পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।