প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ব্রাজিল

প্রথম ম্যাচে কোনোমতে ড্র করা ব্রাজিল এদিন শুরুটা করল দুর্দান্ত। কিন্তু একই ধারায় চলল না পুরোটা সময়। প্রথমেই এগিয়ে যাওয়া ব্রাজিল মাঝে দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ল। এরপরই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল সেলেসাওরা। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে জয় তুলে নিল অসিদের বিপক্ষে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে তাদেরকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল।

প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক শুরু করে ব্রাজিল। ফলাফল পেতেও সময় লাগেনি। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন ভ্যান্ডারসন। গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পোর দুর্দান্ত পাস ধরে বক্সের ডান দিক থেকে নেওয়া জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান তিনি।

এর চার মিনিট পরই আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল সেলেসাওরা। জটলার ভেতর থেকে রাফিনহার পর পর দুটি শট দারুণ দক্ষতায় সেভ করে অস্ট্রেলিয়াকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।

ম্যাচের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ব্রাজিলের ওপর চাপ তৈরি করতে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে মেলে তার ফলাফল। সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ছয় গজ বক্সের খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান আলেসান্দ্রো চিরকাতি।

ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে অবিশ্বাস্য এক গোল করে ম্যাচে লিড নেয় অসিরা। চিরকাতির পাস ধরে ডি-বক্সের বেশ কিছুটা বাইরে থেকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি বুলেট গতির শটে বল জালে জড়িয়ে দেন কনোর মেটক্যাফ। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগও তৈরি করে তারা। রাফিনহার পাসে বক্সের বাম দিক থেকে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট এবং পরবর্তীতে কর্নার থেকে জাইর কুনহার নেওয়া হেডার দারুণভাবে ব্লক করে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণভাগ।

তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আর ব্রাজিলকে আটকে রাখতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ৪৩তম মিনিটে বক্সে দানিলো সান্তোসকে ফাউল করায় ভিএআর মনিটর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

সেখান থেকে স্পট-কিকে ঠাণ্ডা মাথার বাঁ পায়ের শটে জালের নিচের ডান কোণ দিয়ে বল পাঠিয়ে ব্রাজিলকে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরান রাফিনহা। এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে ব্রাজিল। ৫৬তম মিনিটে কর্নার থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের মাপা ক্রসে ছয় গজ বক্সের মাঝখান থেকে দারুণ হেড করেন গ্যাব্রিয়েল মাগালেহায়েস। তবে দারুণ রিফ্লেক্সে অস্ট্রেলিয়াকে বাঁচান গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।

এরপর ৬১তম মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় অস্ট্রেলিয়া। কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগে ছয় গজ বক্সের ডান পাশ থেকে তেতে ইয়েঙ্গির হেডার বাম পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। সেখান থেকে রিবাউন্ড পেয়ে চিরকাতির নেওয়া হেডারও পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল। মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে এসে বক্সের মধ্যে পাস বাড়ান এন্ড্রিক। ছয় গজ বক্সের কাছে থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ব্রুনো গিমারায়েস।

এরপর ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে আরেকবার অস্ট্রেলিয়াকে রক্ষা করেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক। ভিনিসিয়াসের পাস ধরে এস্তেভাওয়ের নেওয়া শট আটকে দেন অস্ট্রেলিয়া গোলরক্ষক। এর ঠিক পরপরই কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এন্ড্রিকের নেওয়া ডান পায়ের শট পোস্টের সামান্য বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে বক্সে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ফাউল করে বসেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। পেনাল্টি থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে বল পাঠিয়ে ব্রাজিলের ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত করেন ভিনিসিয়াস।

৮৭তম মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে বক্সের মাঝখান থেকে রাইলি ম্যাকগ্রি এবং পরবর্তীতে লুকাস হেরিংটনের নেওয়া পরপর দুটি বাঁ পায়ের জোড়ালো শটই পোস্টের বাম দিক দিয়ে বাইরে চলে যায়। ফলে ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *