‘বিশ্বযুদ্ধে ইহুদিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার দায় অস্বীকার করলে মুসলিম অভিবাসীদের ছাড়তে হবে জার্মানি’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা (হলোকাস্টের) জন্য জার্মানির ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানানো মুসলিম অভিবাসীদের দেশটি ছেড়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর), বার্লিনে, ম্যাকাবিয়া গেমসে, জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করা ইহুদি ক্রীড়াবিদদের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মের্ৎস বলেন, ‘আমাদের দেশের এই ঐতিহাসিক দায় ইসলামী দেশগুলো থেকে জার্মানিতে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর কেউ যদি এই দায় মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাকে আমাদের দেশ ছেড়ে যেতে হবে।’

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাকাবিয়া গেমসে অংশ নেওয়া জার্মান বাস্কেটবল দলের এক কোচ চ্যান্সেলরকে জানান, তার দলের ইহুদি খেলোয়াড়েরা জনসমক্ষে দলের জ্যাকেট পরতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, ওই জ্যাকেটে ইহুদি ধর্মের প্রতীক ‘স্টার অব ডেভিড’ রয়েছে। এরপরই এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মের্ৎস।

বক্তব্যে, ১৯৮৫ সালে, জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রিশার্ড ফন ভাইৎসেকারের দেওয়া একটি ভাষণের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। 

ওই ভাষণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যার মধ্য দিয়ে সংঘটিত গণহত্যায় জার্মানির ভূমিকা স্বীকার করা এবং সেই ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।

ফন ভাইৎসেকার বলেছিলেন, তরুণেরা হলোকাস্টের জন্য দায়ী না হলেও এর ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের দায় তাদের বহন করতে হবে। 

মের্ৎস বলেন, ‘এই দায় পুরো জার্মান সমাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।’ সাবেক প্রেসিডেন্টের ওই বক্তব্যকে তিনি চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে মনে করেন বলেও জানান।

বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মের্ৎস আরও বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে যোগ করতে চাই, জার্মানিতে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, জার্মানিতে, ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। দেশটির ইহুদিবিদ্বেষবিষয়ক গবেষণা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশন—রিয়াসের এ বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে শুধু বার্লিনেই ইহুদিবিদ্বেষী ২ হাজার ১৯৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জার্মানির এক আইনপ্রণেতা মন্তব্য করেন, ‘হলোকাস্টের পর থেকে ইহুদিদের জীবন এখনকার মতো এতটা হুমকির মুখে আর কখনো পড়েনি।’

তবে ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালে বার্লিনে, এ ধরনের ২ হাজার ৫২১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রতিবেদনে জনপরিসরে ইহুদি ও ইসরায়েলিদের জন্য ক্রমবর্ধমান বৈরী পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে তাদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *