রোনালদোর বিদায়ে পর্তুগালের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ কোন পথে?

একটা যুগের শেষ মানে শুধু মাঠ থেকে একজন কিংবদন্তির বিদায় নয়, কখনো কখনো একটি দেশের পরিচয়েরও বদলে যাওয়া। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অবসরে তাই পর্তুগাল হারাতে যাচ্ছে এমন এক মুখ, যার বিকল্প হয়তো ফুটবল খুঁজে পাবে, কিন্তু বাণিজ্যিক বিশ্ব পাবে কি? তার অবসরের মধ্য দিয়ে পর্তুগাল শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারকেই হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মুখকেও। ফলে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, রোনালদোবিহীন সময়ে এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করা যায়।

৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের বিদায় ঘোষণা দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন ক্রীড়া বাজার বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সা। তিনি পোর্তোর পর্তুগিজ ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক। স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফইকে তিনি বলেন, ফেডারেশন তাদের মূল পণ্য হারায়নি। কিন্তু সেই পণ্যের সঙ্গে জড়িত সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত সম্পদটি তারা হারাচ্ছে।

সা খোলামেলাই বলেছেন, ‘জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক প্রচারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ব্র্যান্ডের গুরুত্ব অসাধারণ এবং স্বল্প মেয়াদে অন্য কোনো পর্তুগিজ খেলোয়াড়ের পক্ষে এর অনুকরণ করা কঠিন। পর্তুগাল শুধু একজন অসাধারণ খেলোয়াড়কেই হারাচ্ছে না, বরং পর্তুগালের বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক প্রচারককেও হারাচ্ছে।’

বাস্তবতাও তার কথাকে সমর্থন করে। ২০২৫ সালে তার প্রতিষ্ঠান একটি সমীক্ষা চালায়। তাতে সিআর৭ ব্র্যান্ডের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৮৫ কোটি ইউরো। ২০২০ সালের তুলনায় তা ৩২৫ শতাংশ বেশি। ক্রীড়া জনপ্রিয়তার সূচকে রোনালদোর নম্বর ১০০-এর মধ্যে ৮৮। সামাজিক মাধ্যমে তার অনুসারী এক বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এতে তিনি নিজেই একটি বৈশ্বিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে উঠেছেন।

তবে সা মনে করেন, এর প্রভাব হঠাৎ করে ফেডারেশনের ওপর পড়বে না। কারণ স্পনসরশিপ চুক্তি হয় জাতীয় দল ও ফেডারেশনের স্বত্বের ভিত্তিতে। কোনো একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে নয়। তাই বর্তমান চুক্তিগুলোর কাঠামোয় বড় ধাক্কা লাগার কথা নয়। বড় টুর্নামেন্টে পর্তুগালের নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং অন্য তারকাদের উপস্থিতিও দলের আকর্ষণ ধরে রাখবে।

সা বলেন, ‘একটা প্রভাব পড়বে। কিন্তু এখনই বলা ঠিক হবে না যে ফেডারেশনের রাজস্বতে বড় ধরনের ধস নামাতে যাচ্ছে তার অবসর, সেটা প্রমাণ করতে উপাত্ত লাগবে।’

তার হিসাবে ঝুঁকি আছে দুটি জায়গায়। একটি পণ্য বিক্রি, অন্যটি আন্তর্জাতিক চাহিদা। রোনালদোর ৭ নম্বর জার্সি বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি সম্পদ হয়ে উঠেছিল। রাতারাতি এর বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়।

পর্তুগালের ভেতরে টিকিট বিক্রিতে প্রভাব হবে সামান্য। কারণ জাতীয় দলের সঙ্গে সমর্থকদের বন্ধন কোনো একজন খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক গভীর। বিদেশের বাজারে ছবিটা আলাদা। সেখানে শুধু রোনালদোর উপস্থিতিই বাড়তি চাহিদা তৈরি করত এবং বাণিজ্যিক মূল্য বাড়িয়ে দিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *