ক্ষমা চেয়ে হৃদয়ছোঁয়া বার্তা আর্জেন্টাইন কোচের

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়েই জন্মশহর পুজাতোতে ফিরেছিলেন লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু কয়েক দিনের সেই সফর তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, ট্রফি না জিতলেও মানুষের ভালোবাসা কতটা গভীর হতে পারে। শহর ছাড়ার আগে বাবা-মায়ের বাড়ির দরজায় একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে যান আর্জেন্টিনার এই কোচ। আর কিছুদিনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন ফাইনাল হারার বেদনা, সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ এবং দলের প্রতি নিজের কৃতজ্ঞতা।

শনিবার রাতে পুজাতো থেকে বিদায় নেন স্কালোনি। বিদায়ের আগে বাবা-মায়ের বাড়ির দরজায় একটি কার্ডবোর্ডে লিখে যান, ‘লিও গত রাতে চলে গেছে! এত ভালোবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’

সান্তা ফে প্রদেশের ছোট্ট শহর পুজাতোতে স্কালোনির উপস্থিতি যেন উৎসবের আবহ তৈরি করেছিল। মাত্র কয়েক হাজার মানুষের এই শহরে টানা পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিনই ভিড় করেন অসংখ্য সমর্থক। কেউ অটোগ্রাফ নিয়েছেন, কেউ ছবি তুলেছেন, আবার কেউ শুধু বিশ্বকাপজয়ী কোচকে কাছ থেকে একবার দেখার জন্যই এসেছেন।

ব্যস্ত সময়ের মাঝেও শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননি স্কালোনি। শহরের অলিগলি ও আশপাশের এলাকায় সাইকেল চালিয়ে সময় কাটিয়েছেন। পাশাপাশি কাসিলদার আলুমনি ক্লাবে গিয়ে কাসিলদা লিগের আলুমনি ও স্পোর্তিভো মাতিয়েনসোর ম্যাচও দেখেছেন। স্পোর্তিভো মাতিয়েনসোই ছিল তাঁর ফুটবলজীবনের প্রথম ক্লাব।

তবে জন্মশহরের উষ্ণ অভ্যর্থনার পরও ফাইনালের আক্ষেপ তাকে তাড়া করে ফিরছে। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার সাত দিন পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘তোমাদের জন্য আরেকটি কাপ এনে দিতে পারিনি, এ জন্য আমি দুঃখিত।’

নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে স্কালোনি লিখেছেন, ‘দুঃখ আর আনন্দ এক হয়ে গেছে। অশ্রু আর হাসি, যন্ত্রণা আর প্রশান্তি-সবকিছু যেন একসঙ্গে মিশে আছে।’

একই পোস্টে সমালোচকদের উদ্দেশেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি, ‘যারা আমাদের চেনেই না, তাদের কাছ থেকে বারবার বরফ-ঠান্ডা পানির বালতি সহ্য করতে হয়েছে।’

পোস্টের শেষ অংশে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই কোচ। বিশেষ করে নেপথ্যে থেকে দলের জন্য কাজ করা মানুষদের আলাদাভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘যার একজন আর্জেন্টাইন বন্ধু আছে, তার কাছে একটি অমূল্য সম্পদ আছে।’

এদিকে স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা থামছে না। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে। এরপরও তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। যদিও এএফএ ২০৩০ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে তাকে ধরে রাখতে আগ্রহী। সেপ্টেম্বরে ফিফার পরবর্তী আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আবারও আর্জেন্টিনার ডাগআউটে দেখা যাওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বকাপজয়ী এই কোচকে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *