দুই গোল করে দলের হার এড়িয়েছেন, কিন্তু প্রশংসার চেয়ে বিতর্কই যেন বেশি টানছে নেইমারকে। চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে তরুণ সতীর্থদের তিরস্কার এবং পরদিন অনুমতি ছাড়াই অনুশীলন কেন্দ্র ত্যাগের অভিযোগে আবারও আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। তবে সব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি!
ব্রাজিলের ঘরো লিগ ম্যাচে জোড়া গোল করে সান্তোসকে হার এড়াতে সাহায্য করলেও পরদিনই তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর দাবি, ম্যাচের বিরতিতে ড্রেসিংরুমে দুই তরুণ সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। শুধু তাই নয়, ম্যাচের পরদিন কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই অনুশীলন কেন্দ্র ত্যাগ করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিত হলেও নির্ধারিত রিকভারি সেশনে অংশ নেননি নেইমার। কিছু ছবি তোলা ও কফি পান করার পরই তিনি অনুশীলন কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় ক্লাব কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি বুঝতে ট্রেনিং সেন্টারে যান বলে দাবি করেছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমটি।
গ্লোবোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাফটাইমে তরুণ সতীর্থদের উদ্দেশে নেইমারের মন্তব্য স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পোকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করার পাশাপাশি ব্যঙ্গ করে বলেন, ২০২৭ সালে হয়তো তিনি সিরি ‘বি’-তে চ্যাপেকোয়েন্সের হয়ে খেলবেন। একই সঙ্গে আত্মঘাতী গোল করা জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন নেইমার। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যে রোববারটা চেয়েছিলাম, এটা তা নয়। কিন্তু আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আমি দেখছি, ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি-এমন কিছু খবর বেরিয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
পরে একটি ভিডিও বার্তায় আরও কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। অনেকটা যেন মেজাজ হারালেন! তিনি বলেন, ‘যিনি এই তথ্য দিয়েছেন, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। আপনি যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। সেখানে পুরো দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাওআমরা সবাই কথা বলেছি। আমরা নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি দাবি করেছি। কারণ আমরা প্রতিযোগিতাপ্রিয় এবং জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণদের আলাদা করে কোনো ধরনের ধমক দেওয়া হয়নি। এই মিথ্যাগুলো আমি মেনে নেব না।’
ড্রেসিংরুম বিতর্কের পাশাপাশি নেইমারকে ঘিরে আরেকটি আলোচনা শুরু হয়েছে মাঠের একটি ঘটনার কারণে। চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখে পরের ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ তোলেন, নিষেধাজ্ঞা মাথায় রেখেই ইচ্ছাকৃতভাবে কার্ড নিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। সেই অভিযোগও নাকচ করে নেইমার লিখেছেন, ‘ভুলটা আমারই হয়েছে। আমি কার্ড নিয়েছি, এখন আর কিছু করার নেই। কিন্তু দয়া করে এসব নিয়ে মনগড়া গল্প বানাবেন না।’
অবশ্য সান্তোসে নেইমারকে ঘিরে বিতর্ক এটাই প্রথম নয়। এর আগেও ড্রেসিংরুমে তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি ২০২৬ সালের শুরুতে তরুণ ফরোয়ার্ড রবসন জুনিয়রকে চড় মারার ঘটনাও বেশ আলোচিত হয়েছিল। পরে অবশ্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে সেই বিতর্কের ইতি টানেন নেইমার!
এসএন/পিডিকে