বিশ্বকাপের মঞ্চে স্বাগতিক দলের ওপর প্রত্যাশার চাপ সবসময়ই একটু বেশি থাকে। সেই চাপকে শক্তিতে পরিণত করে দুর্দান্ত এক শুরু করেছে মেক্সিকো!
সহ-আয়োজক মেক্সিকো ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের স্বপ্নযাত্রাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। গুয়াদালাহারার দর্শকভর্তি স্টেডিয়ামে লুইস রোমোর একমাত্র গোলই গড়ে দেয় এই গুরুত্বপূর্ণ জয়।
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল মেক্সিকো। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়ায় দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ এখন ৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ঝুলিতে আছে ৩ পয়েন্ট। গ্রুপের বাকি দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের পয়েন্ট মাত্র ১ করে। ফলে শেষ ম্যাচের আগেই শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত হয়ে গেছে মেক্সিকানদের।
ম্যাচের শুরুতে আজ অবশ্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী এশিয়ার প্রতিনিধিরা প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালালেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়। স্বাগতিকদের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা কোরিয়ানদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে চিত্র বদলে যায়। নিজেদের মাঠে খেলতে নামা মেক্সিকো ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষক কিম সেউন গিউ বল নিয়ন্ত্রণে ভুল করলে সেই সুযোগ লুফে নেন লুইস রোমো। নিখুঁত প্লেসিংয়ে বল জালে জড়িয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই ব্যবধান গড়ে দেয়।
গোল হজমের পর কোরিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। বরং ৭৫তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল জিমেনেস। তবে এবার কোরিয়ান গোলরক্ষক কিম সেউন গিউ দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হারার হাত থেকে রক্ষা করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো শুধু দ্বিতীয় রাউন্ডই নিশ্চিত করেনি, গড়েছে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ডও। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের পর প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল না হজম করে টানা দুই জয় পেয়েছে তারা। আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলটি এখন শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১-১ গোলে ড্র করায় দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার লড়াই আরও জমে উঠেছে। মেক্সিকো ইতোমধ্যে পরের ধাপের টিকিট নিশ্চিত করলেও দ্বিতীয় স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা এখনো খোলা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র-তিন দলই শেষ ম্যাচে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পাবে।
২৫ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। একই সময়ে মেক্সিকো খেলবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। তবে সেই ম্যাচের ফল যাই হোক, মেক্সিকোর জন্য সেটি হবে গ্রুপসেরার মুকুট নিশ্চিত করার লড়াই। আর বাকি তিন দলের জন্য সেটি হবে বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ পরীক্ষা। বর্তমানে যে ছন্দে রয়েছে স্বাগতিকরা, তাতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের ধাপে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি!
এসএন/কে