শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি

একসময় বলা হতো, ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছায়া থেকে বের হতে পারবেন তো লিওনেল মেসি? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারবেন তো? জাতীয় দলের জার্সিতে বড় কোনো শিরোপা কি আদৌ জিততে পারবেন? বছরের পর বছর ধরে এমন অসংখ্য প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। আজ সেই প্রশ্নগুলো ইতিহাস। উত্তর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি নিজেই।

২৪ জুন। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্ম নিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও সফল খেলোয়াড়দের একজন। আজ ৩৯ বছরে পা রাখলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

মেসির গল্পটা শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়। এটি সীমাবদ্ধতাকে জয় করার গল্প, অসম্ভবকে সম্ভব করার গল্প। ছোটবেলায় গ্রোথ হরমোনজনিত সমস্যার কারণে তার ফুটবল ক্যারিয়ারই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রতিভার ওপর আস্থা রেখে তাকে সুযোগ দিয়েছিল বার্সেলোনা। সেই সুযোগই বদলে দেয় ফুটবল ইতিহাসের একটি বড় অধ্যায়।

বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়া থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন মেসি। একের পর এক গোল, অসংখ্য অ্যাসিস্ট, রেকর্ড আর শিরোপায় ভরে ওঠে তার ক্যারিয়ার। বার্সেলোনার জার্সিতে জিতেছেন অসংখ্য লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ঘরোয়া কাপ। ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে।

তবে ক্লাব ফুটবলের সাফল্যের পরও দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা না জেতার আক্ষেপ ছিল তার। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে হার, একের পর এক কোপা আমেরিকার হতাশা তাকে অনেক সমালোচনার মুখে ফেলেছিল। এমনকি একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি গল্প।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটান মেসি। এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে জেতান বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। সেই মুহূর্তেই অনেকের চোখে ‘সর্বকালের সেরা’ বিতর্কেরও অবসান ঘটে।

বিশ্বকাপ জয়ের পরও থেমে থাকেননি মেসি। জাতীয় দলের হয়ে জিতেছেন আরও শিরোপা, ভেঙেছেন একের পর এক রেকর্ড। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার তিনি।

ক্লাব ক্যারিয়ারেও এসেছে নতুন অধ্যায়। ইউরোপের দীর্ঘ যাত্রা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে খেলছেন। বয়স বাড়লেও মাঠে তার প্রভাব কমেনি। গোল, অ্যাসিস্ট আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে এখনো তিনি দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।

মেসির ক্যারিয়ারের অর্জনের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে, তা কয়েকটি অনুচ্ছেদে শেষ করা কঠিন। ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড, বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা, গোল্ডেন বুট— ফুটবলে জেতার মতো প্রায় সবকিছুই জিতেছেন তিনি।

তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও মেসির সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো অন্য জায়গায়। তার খেলা দেখেই ফুটবলের প্রেমে পড়েছে একটি প্রজন্ম। তার ড্রিবলিং, পাস, গোল কিংবা মাঠের আচরণ কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।

৩৯ বছরে পা রাখলেও মেসির গল্প এখনো শেষ হয়নি। বর্তমান বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে জোড়া গোল করে দলকে তুলে নিয়েছেন নকআউট পর্বে। “বয়স কেবল একটি সংখ্যা” এ কথাটিই যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ বিশ্ব ফুটবলের এক অমর নাম। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, ফুটবল বদলেছে। কিন্তু মেসির নামটি রয়ে গেছে একইভাবে উজ্জ্বল।

এনটিভি অনলাইনের পক্ষ থেকে শুভ জন্মদিন, লিওনেল মেসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *