তরুণদের দ্রুত বিয়ের পিঁড়িতে বসাতে এবং বিয়ে প্রক্রিয়াকে সহজ করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে চীনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের নিবন্ধনকে ঝক্কিমুক্ত করতে মা ও শিশুদের হাসপাতাল, ব্যাংক, পার্ক এমনকি নাইটক্লাবের মতো জায়গায় বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বুথ বসানো হচ্ছে।
চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘কিশি উৎসব’ উপলক্ষে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে শানডং প্রদেশের লিনজি জেলার একটি মা ও শিশুদের হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে বিয়ে নিবন্ধনের জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নবদম্পতি একই স্থান থেকে বিয়ে সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিয়ের আগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ সেবা নিতে পারবেন।
হাসপাতালে বিয়ের এই উদ্যোগের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা গেছে। গত জুলাই মাসে তিয়ানজিনের পোস্টাল সেভিংস ব্যাংকের একটি শাখা দেশটির প্রথম ব্যাংক হিসেবে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ চালু করে। এ ছাড়া গুয়াংজু বায়ুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট দেখার সুবিধার পাশাপাশি বিয়ের সনদ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সাংহাইয়ের একটি নাইটক্লাব স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে গান ও বাজনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করেছে। মেট্রোরেল স্টেশন, পার্ক ও প্রাচীন মন্দিরেও এখন এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
দেশটিতে জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে। জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা সংকুচিত হওয়ার কারণে পরিবার গঠনে উৎসাহ দিতে যা যা সম্ভব করছে চীন সরকার। গত বছরের শেষের দিকে কাগজের জটিলতা কমানোয় সাময়িকভাবে বিয়ে বাড়ে। তবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বিয়ে নিবন্ধনের সংখ্যা আরও ৭.৫ শতাংশ কমেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, রেজিস্ট্রেশন করার জায়গা পাওয়া যায় না বলে কি মানুষ বিয়ে করছে না? অন্য একজন তামাশা করে লেখেন, দেওয়ানি বিষয়ক দপ্তরের উচিত এভারেস্ট পর্বতের চূড়ায় ডিভোর্স সেবা চালু করা। তৃতীয় একজন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জটিল প্রক্রিয়া তরুণদের আটকে রাখেনি। তাদের আটকে রাখছে ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা ও চ্যালেঞ্জগুলো।