বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে জার্মানি। মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে যখন চারদিকে প্রশংসা চলছে, ঠিক তখনই ম্যাচের পর দুই জার্মান ফুটবলার ফেলিক্স এনমেচা ও জোনাথান তা’র মাঠে প্রার্থনা করা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক।
তবে সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ও দলটির সাবেক অধিনায়ক আন্তোনিও রুডিগার। তিনি এই ঘটনাকে কোনো বিতর্ক না ভেবে বরং এটিকে ইতিবাচক ও সুন্দর দৃশ্য হিসেবেই দেখছেন। নিজের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল রুডিগার মনে করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার।
এ বিষয়ে রুডিগার বলেন, ‘ওরা মাঠে যা করেছে, তাতে ভুলের কিছু নেই। আমার মতে এটি খুবই সুন্দর একটি দৃশ্য। আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে প্রত্যেকের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তাই এই ছবিগুলো নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করার কোনো সুযোগ নেই।’
ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আগেও বেশ কয়েকবার সমালোচনার শিকার হয়েছেন রুডিগার। বিশেষ করে ২০২৪ সালে রমজানে তাওহিদের প্রতীক নিয়ে পোস্ট করায় তাকে পড়তে হয়েছিল কঠোর সমালোচনার মুখে।
সেসব সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে রুডিগার জানান, তিনি গঠনমূলক সমালোচনাকে সম্মান করেন, কিন্তু অহেতুক বিদ্বেষ ছড়ানো কোনো সমালোচনাকে গুরুত্ব দেন না।
দলের বর্তমান রক্ষণভাগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের সতীর্থ জোনাথান তা’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন রুডিগার। নিজের বর্তমান ভূমিকার পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, ‘জোনাথান গত কয়েক বছরে যেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছে, তা অসাধারণ। এখন আমাদের রক্ষণের নেতৃত্ব ওর হাতেই। আর এই সত্য স্বীকার করতে আমার কোনো দ্বিধা নেই।’
নিজেকে এখন শুরুর একাদশের পরিবর্তে রিজার্ভ বেঞ্চে দেখার বিষয়ে রুডিগার বলেন, ‘বেঞ্চে বসে থাকা সহজ নয়, তবে জাতীয় দলের জার্সিতে দলের প্রয়োজনে যেকোনো ভূমিকা পালন করতে আমি প্রস্তুত। দলের স্বার্থে যেকোনো অবস্থানে মানিয়ে নেওয়াটাই একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের পরিচয়।’
বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের পরের ম্যাচে আগামী শনিবার রাতে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে জার্মানি। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বড় জয় পাওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা সেই ম্যাচেও নিজেদের দাপট ধরে রাখতে চায়।