বেলজিয়াম কমতি রাখেনি আক্রমণের। যতভাবে সম্ভব, চেষ্টা করেছে সবই। বেলজিয়ামের একের পর এক বুলেট গতির শট আছড়ে পড়ছিল ইরানের বক্সে। ম্যাচটিতে ২৩টি শট নেয় বেলজিয়াম, যার মধ্যে ৭টিই ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু সেই ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় বেলজিয়ান ফরোয়ার্ডদের মুখে হতাশার ছাপ। ম্যাচ শেষে স্কোরশিট গোল শূন্য। কারণ, গোলপোস্টের নিচে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আলিরেজা বেইরানভান্দ। ইরানের গোলরক্ষক।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে রোববার (২১ জুন) দিনগত রাতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে ইরান। এ ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন ইরানের গোলরক্ষক। বলা চলে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইরানের রক্ষণভাগকে একাই সামলেছেন বেইরানভান্দ। পারফরম্যান্সের জন্য পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও।
রাতারাতি তারকাখ্যাতি পাওয়া আলিরেজার জীবন সহজ ছিল না। অর্থকষ্টে ঘর ছেড়েছেন ছোটবেলায়। যাযাবর পরিবারের সন্তান হওয়ায় মায়ার টান বুঝে ওঠার আগেই পেটের টান বুঝেছেন। কখনও গাড়ি পরিষ্কার করেছেন, কখনও টেনেছেন পাথর। খিদে মিটেছে, শক্তপোক্ত হয়েছে শরীর। সেই শক্তি আর সংযমের প্রমাণ দিলেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।
সাতটি সেভ করে বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের এক যাযাবর কুর্দি রাখাল পরিবারে জন্ম আলিরেজার। কিশোর বয়সে ঘর ছেড়ে তেহরানে চলে যান ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে।
তেহরানে এসে দীর্ঘদিন ফুটবল ক্লাবগুলোর সামনে রাস্তায় ঘুমাতেন, গাড়ি পরিষ্কার করা, ফ্যাক্টরিতে কাজ করা—এসব কঠিন জীবন পেরিয়ে তিনি ধীরে ধীরে পেশাদার ফুটবলে জায়গা করে নেন।
শুধু পেনাল্টি সেভ বা গোলপোস্ট পাহারাই নয়, আলিরেজার হাত ও পায়ের শক্তিও এক বিস্ময়। দূরপাল্লার থ্রো ও কিকের কারণে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দুটি বিশ্বরেকর্ড রয়েছে তার নামে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ফুটবলে হাত দিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দূরে (২০০.১৪ ফুট) বল ছোড়ার অনন্য রেকর্ড গড়েন তিনি। এর পাশাপাশি সবচেয়ে দীর্ঘ ড্রপ-কিকের (২৫৫.৯৫ ফুট) বিশ্বরেকর্ডটিও এই ইরানি তারকার দখলে।