মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বড় ধরনের মজুত বাড়ার তথ্য সত্যেও তেলের মূল্যে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বা ০.৮৪ শতাংশ বেড়ে ৮৯.৬৬ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দর ৭২ সেন্ট বা ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৩.৯২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। লেনদেনের শুরুতে উভয় ধরনের জ্বালানি তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। খবর রয়টার্সের।
এর আগে মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্গের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি বেড়ে ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। আর সোমবার তেলের দাম এক লাফেই প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন দাবি তোলার পরই মূলত ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনার আশা ক্ষুণ্ন হতে শুরু করে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ফিলিপ নোভার বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেন ‘চুক্তি’ এবং ‘যুদ্ধের’ মাঝামাঝি একটি দোলনায় রূপ নিয়েছে। এর ফলে তেলের বাজার ব্যারেলপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।
গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেবে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে পৃথক হামলার খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসিন রেজাই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট যদি ইরানের তাদের অবরুদ্ধ সম্পত্তি ফেরত দেওয়া ও আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের শর্ত না মানে, তবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধই রাখা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ছেড়ে দেওয়া কিংবা ‘কঠোর আঘাত হানার’ উভয় সম্ভাবনার কথাই উল্লেখ করেছেন। পুরো সংঘাত জুড়ে তাকে কখনো তীব্র হুমকির সুর আবার কখনো দ্রুতই শান্তি চুক্তি হওয়ার দাবি করতে দেখা গেছে।
কূটনৈতিক এই অনিশ্চয়তা অবশ্য স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়ীদের (ট্রেডার) জন্য মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। জাহাজ চলাচলের তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের কারণে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৮টিতে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে চলাচল করত।
এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্যানুযায়ী, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত হঠাৎ ৯.১ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে। প্রাথমিক ধারণার চেয়ে মজুত বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাজারে সরবরাহের দুশ্চিন্তাই আপাতত তেলের বাজারকে ওপরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।