প্রযুক্তিনির্ভর গণমাধ্যমের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফটো সাংবাদিকদের সময়োপযোগী দক্ষ জনবলে রূপান্তর করতে একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম এখন প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনবল গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে ফটো সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনের নিজস্ব প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
মন্ত্রী বলেন, একসময় সাংবাদিকতার প্রধান উপকরণ ছিল কলম এবং ফটো সাংবাদিকদের জন্য ক্যামেরা। এখন একটি ছোট ডিভাইসই টেলিভিশন, রেডিও, ক্যামেরা, পত্রিকা এমনকি কম্পিউটারের কাজও করছে। এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ফটো সাংবাদিকতার ধরন ও দায়িত্বের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছে।
তিনি ফটো সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সময় বদলেছে, কাজের ধরন বদলেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মনোজগতে পরিবর্তন না এলে পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ফটো সাংবাদিকতা এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা একটি ছবি দিয়েই ইতিহাস, মানবিক সংকট কিংবা যুদ্ধের বাস্তবতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ কিংবা ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছবি বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—এ ধরনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ছবি কখনও কখনও হাজার শব্দের চেয়েও বেশি কার্যকর।
তিনি জানান, ফটো সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভবনটি তাদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন।
ওয়েজবোর্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম শিল্পে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানজনক বেতন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে গণমাধ্যম মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে ওয়েজবোর্ড সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড, ফটো সেকশন সম্প্রসারণসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন পেশাগত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলবে।
গণতন্ত্র রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ একটি রোগের মতো। আজ গণতন্ত্রী কেউ আগামীকাল ফ্যাসিস্ট হয়ে যেতে পারেন। তাই গণমাধ্যমকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি অতীতের সাংবাদিক নির্যাতন ও বিভিন্ন ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ দাখিলের আহ্বান জানান। এতে করে আইনের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিপিজেএ সভাপতি একে এম মহসীনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সেক্রেটারি বাবুল তালুকদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণী চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি বাসিত জামাল, তথ্য মন্ত্রণায়লয়ের প্রধান তথ্য কর্মকতা ইয়াকুব আলী, বিএফইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক, বিপিজেএ সহসভাপতি মশিউর রহমান সুমন, যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেকুজ্জামান চৌধুরী রাজীব, প্রচার সম্পাদক মো. সৌরভ ও ক্রীড়া সম্পাদক খোকন শিকদার।
এসএন/পিডিকে