প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার চৌঘরিয়া আবদুল মান্নান ভুঁইয়া আদর্শ বিদ্যাপীঠের এক সহকারী শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওই শিক্ষক। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম হাজির হয় এবং হামলাকারী দুজনকে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে।
যাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, তারা হলেন শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়নের পূবেরগাঁও গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে রাশিদুল ইসলাম (২৬) এবং একই গ্রামের নজরুলের ছেলে ইমন (২০)। এ সময় আরেকজন পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মঞ্জিল মোল্লা অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে তিন যুবক এসে ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ের গেটের সামনে যাওয়ার জন্য ফোন করেন। ফোন পেয়ে গেটের সামনে যাওয়ার পর হামলাকারীদের একজনের ভাইকে প্রাইভেট পড়াতে বলেন তারা। প্রাইভেট পড়াতে রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটির একপর্যায় শিক্ষককে এলোপাতাড়ি মারধর করে তারা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্কুলের দপ্তরি বিষয়টি দেখতে পেয়ে দুজন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে এক হামলাকারীকে আটক করে স্কুলে নিয়ে আসেন। পরে তার তথ্যমতে আরেকজনকে ফোনে আপস মীমাংসা করার কথা বললে বিদ্যালয়ে উপস্থিত করে তাকেও আটক করা হয়। অন্যজন মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যায়।
শেষে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে হামলাকারী দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়িতে হামলা করে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত করেন শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন। পরে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে তারা আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবে।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দুই হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।