পাকিস্তান ক্রিকেটে আসতে পারে বড় রদবদল

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর সাত ক্রিকেটার ও দলের প্রধান কোচসহ দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। শুরুতে জানা গিয়েছিল, প্রথম দুই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই বাদ পড়েছেন এই ক্রিকেটাররা। এর মাঝেই এবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তৃতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের আচরণও বিবেচনায় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই হেরেছে পাকিস্তান। এরপর এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পিসিবি। এরই মধ্যে টেস্ট কোচ সরফরাজকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসনকে।

দলে জায়গা হারানোদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন উইকেটকিপার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও সালমান আলী আঘা। চার ইনিংসে রিজওয়ানের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ৬১ রান। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে তার শট নির্বাচন নিয়েও ওঠে সমালোচনা। ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অন্যদিকে, কার্ফ ইনজুরির কারণে লর্ডস টেস্টে কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি ইমাম-উল-হক। তবে ব্যাট হাতে তার মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচকরা। পরে তার চোটই হয়ে ওঠে আলোচনার অন্যতম বিষয়।

সালমান আলী আঘারর পরিস্থিতি ছিল কিছুটা ভিন্ন। বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেন তিনি। তবে দ্বিতীয় টেস্টে একাদশ থেকে বাদ পড়ার পর এজবাস্টন টেস্টের আগেই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

তবে সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য বলছে, রিজওয়ান ও ইমামকে বাদ দেওয়ার পেছনে শুধু পারফরম্যান্স দায়ী নয়। ড্রেসিংরুমে তাদের আচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই অবস্থায় রিজওয়ান, ইমাম ও আঘার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে তাদের আচরণ ব্যাখ্যা করতে বলা হতে পারে।

অন্যদিকে, দেশে ফেরত পাঠানো বাকি ক্রিকেটারদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন লাল বলের কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। সাদা বলের ক্রিকেটে আগে যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে পরীক্ষা করে দেখতে চান  হেসন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রদবদলের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরণের সংস্কার আনার কথা ভাবছেন। সেই সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

এরই মধ্যে নির্বাচক কমিটির সদস্য মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগ করেছেন। তবে তার পদত্যাগপত্র পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার ভাবে কিছু জানা যায়নি। 

ইমাম ও রিজওয়ানকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে কেন রাখা হয়েছিল–তা নিয়ে নির্বাচক কমিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে পিসিবি।

একই সঙ্গে নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, ইমাম ও রিজওয়ানকে ইংল্যান্ড সফরের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল।

এদিকে, ইংল্যান্ড সিরিজ শেষ হওয়ার পরও মাইক হেসনকে কোচ হিসেবে রেখে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। নিউজিল্যান্ডের এই কোচকে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে হেসন দায়িত্ব নিতে রাজি হন কিনা, তার ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *