ধসে পড়া দুই সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেই, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

দীর্ঘদিনেও বান্দরবানের কুহালং ও নোয়াপতং ইউনিয়নে ধসে পড়া দুটি সেতু সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিনই ঝুঁকিপূর্ণ ও বিধ্বস্ত সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে কুহালং ও নোয়াপতং ইউনিয়নের দুটি সেতু ধসে পড়ে। কুহালং ইউনিয়নের সেতুটি ২০২৩ সালের বন্যায় ধসে যাওয়ার পর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নোয়াপতং ইউনিয়নের সেতুটিও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।

কুহালং ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এসব গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়কপথে থাকা ধসে পড়া সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় সেতুটির ওপর কাদা ও পিচ্ছিল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের একটি খালের ওপর থাকা ধসে পড়া সেতুটি দিয়ে ছয়টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় ধসে পড়া সেতু দিয়ে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা হ্লাইয়াং মারমা ও লাগ্যচিং বলেন, সেতুটি পুরোপুরি ধসে পড়ায় বর্ষাকালে খাল পারাপার ভয়ংকর হয়ে ওঠে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা। 

কুহালং ইউনিয়নের বাসিন্দা উমংসিং মারমা বলেন, ২০২৩ সালে বন্যায় সেতুটি ধসে যাওয়ার পর থেকেই ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। বারবার জানানো হলেও সেতুটি সংস্কারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সোনাই সেফ্রু পাড়ার বাসিন্দা বিমল তংচঙ্গ্যা বলেন, গত বছর বর্ষায় ধসে যাওয়া সেতু দিয়ে পার হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করেন। দ্রুত সেতুটি নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

কুহালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মংপু মারমা ও নোয়াপতং ইউনিয়নের চনুমং মারমা বলেন, সেতু দুটি ধসে যাওয়ার পর থেকে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ বা ধসে পড়া সেতু দুটি সংস্কারের দাবি জানান তারা।

বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান চাকমা বলেন, সেতু দুটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। সেতু দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *