ট্রাম্পের চুক্তির পরও লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ, ক্ষুব্ধ ফ্রান্স

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান ও সংঘাত বন্ধ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসরায়েলের ওপর জোরালো চাপ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে ফ্রান্স। আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ফরাসি গণমাধ্যম ‘ফ্রান্সইনফোকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ওয়াশিংটনের উচিত তেল আবিবকে সংযত করা। খবর আলজাজিরার। 

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বা লেবানিজ আর্মিকে শক্তিশালী করতে এবং তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন ও তহবিল গঠনের লক্ষ্যে ফ্রান্স বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য দেশটির সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করা জরুরি বলে মনে করে প্যারিস।

ফ্রান্সের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননে সব ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। অথচ সেই আহ্বান ও আন্তর্জাতিক চাপকে উপেক্ষা করেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত বিমান ও গোলন্দাজ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে ইরানের পরমাণু চুক্তি ও বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গেও কথা বলেন জঁ-নোয়েল বারো। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা যতক্ষণ না ফ্রান্সের প্রত্যাশা ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর থাকা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কোনো অনুমোদন দেবে না প্যারিস। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্তর্বর্তী চুক্তির পরও ইরানের পরমাণু প্রশ্নে ইউরোপীয় শক্তিগুলো যে এখনও কঠোর অবস্থানে রয়েছে, ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *