‘বোরাট’ ও ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন আর আগের মতো কমেডি সিনেমায় অভিনয় করবেন না। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘আলি জি: হু ইজ আই?’ হতে যাচ্ছে তাঁর অভিনীত এই ধরনের শেষ সিনেমা। তবে সব ধরনের কমেডি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেননি তিনি। মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রনির্ভর কমেডি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেতা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘আলি জি: হু ইজ আই?’। ৫৫ বছর বয়সী কোহেন সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এইমাত্র যে সিনেমাটি করেছি, সেটিই আমার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সিনেমা। কিন্তু এ ধরনের কাজ আর করব না।’
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও এ ধরনের কমেডি থেকে সরে আসার কথা জানিয়েছিলেন কোহেন। তবে নতুন সিনেমাটি নির্মাণের পেছনে ছিল সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই প্রান্তের চরমপন্থা এবং নৈতিকতার দোহাই দিয়ে সহিংসতা চালানোর বিপদ তুলে ধরতে পারে ব্যঙ্গাত্মক কমেডি।
কোহেন বলেন, বর্তমান সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও তাঁকে ভাবাচ্ছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও সহনশীল সমাজ টিকিয়ে রাখতে মানুষের মধ্যে সত্য সম্পর্কে একটি অভিন্ন ধারণা থাকা জরুরি।
নতুন সিনেমায় বহু বছর পর নিজের জনপ্রিয় চরিত্র আলি জি হয়ে ফিরেছেন কোহেন। ১৯৯৮ সালে টেলিভিশনে প্রথম পরিচিতি পাওয়া এই চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি ও মানুষের ভণ্ডামি তুলে ধরেছেন তিনি। তবে চরিত্রটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কারও কারও মতে, আলি জি চরিত্রে বর্ণ ও সংস্কৃতির কিছু নেতিবাচক ধারণা প্রকাশ পেয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত লেখায় কোহেন তাঁর ব্যঙ্গাত্মক অভিনয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এসব চরিত্রের উদ্দেশ্য কুসংস্কার, পক্ষপাত ও অজ্ঞতাকে প্রকাশ করা। তবে দর্শকেরা তাঁর কাজকে একইভাবে ব্যাখ্যা করেন না, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।
‘আলি জি: হু ইজ আই?’ সিনেমাটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার পরিচালক হিসেবেও অভিষেক হয়েছে কোহেনের। ভ্যারাইটি জানিয়েছে, সিনেমাটি ৩০ অক্টোবর থেকে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতেও মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় ও ব্যঙ্গাত্মক কমেডির মাধ্যমে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরেছেন কোহেন। এবার সেই পরিচিত ঘরানা থেকে সরে এসে নতুন ধরনের কাজে মনোযোগ দিতে চান তিনি।