চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গুড়া সরকারি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে তার মা নুরজাহান রেখার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মায়ের জানাজায় অংশ নিতে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য পুলিশি পাহারায় প্যারোলে মুক্তি পান কারাগারে থাকা রাসেল। মায়ের নিথর দেহ সামনে রেখে তাকে অশ্রুসিক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
রাসেলের মায়ের জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। স্থানীয়রা জানান, জানাজায় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিশাল মাঠজুড়ে মানুষের উপস্থিতিতে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানাজার আগে রাসেলকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার পর তাকে আবারও পুলিশি পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরজাহান রেখা। দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর জানাজায় অংশ নিতে না পারার আশঙ্কায় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রাসেল। একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেলেও অন্য একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোয় তার কারামুক্তি আটকে যায়। পরে মানবিক বিবেচনায় মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে করা প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর হয়।
জেলা প্রশাসনের অনুমতি অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেন রাসেল। জানাজা ও দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়।