বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি রংপুরে এরশাদের সমাধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
এদিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করা হয়। পরে বিকেল ২টায় অনুষ্ঠিত হয় স্মরণসভা এবং দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ।
স্মরণসভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত বহু উন্নয়নমূলক উদ্যোগ আজও মানুষের কাছে স্মরণীয়।
তিনি বলেন, রাজনীতিতে এরশাদ ছিলেন গণমানুষের নেতা। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও কল্যাণকে তিনি সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ, দেশপ্রেম এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর অনুপস্থিতি জাতীয় পার্টির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলেও তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তাঁকে প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি, জাতীয় মহিলা পার্টি, জাতীয় কৃষক পার্টি, পল্লীবন্ধু পরিষদ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় তরুণ পার্টি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় শ্রমিক পার্টি এবং জাতীয় মোটর শ্রমিক পার্টির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফখরুল ইমাম, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, আলমগীর সিকদার লোটন, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, নুরুন নাহার বেগম, ড. নুরুল আজহার শামীম, নুরুল ইসলাম তালুকদার, এ এন এম রফিকুল আলম সেলিম, গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আমির উদ্দিন ডালু, আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, মো. হেলাল উদ্দিন, আক্তার হোসেন দেওয়ান, এম এ সোবহান, হুমায়ুন খান, সামসুল হক, আব্দুল হামিদ ভাসানী, লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, হেলাল উদ্দিন হেলাল, নির্মল চন্দ্র দাস, আনিসুর রহমান খোকন, কাজী আবুল খায়ের, জাকির হোসেন মৃধা, ইফতেকার আহসান হাসান ও মিজানুর রহমান মিরুসহ অনেকে।
অন্যদিকে আনিস-হাওলাদার নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিও এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তাঁকে রংপুর নগরীর পল্লী নিবাসে দাফন করা হয়।
এসএন/পিডিকে