যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বার্তা দিতে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় কয়েক হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটো সদস্য দেশগুলো।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে একাধিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগের ঘোষণা দেন। বিভিন্ন চুক্তির সম্ভাব্য আর্থিক মূল্য তুলে ধরা হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সামরিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় পরিবর্তনের আহ্বান জানান রুটে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ঘোষিত চুক্তির মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থরপ গ্রুম্যান থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর নজরদারি ড্রোন কেনা এবং সুইডেনের সাব থেকে ন্যাটোর নতুন নজরদারি বিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা। এছাড়া লকহিড মার্টিন ও জার্মানির রাইনমেটাল যৌথভাবে জার্মানিতে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের খসড়া চুক্তি করেছে।
রুটে জানান, আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে ন্যাটোর মিত্ররা ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করবে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে যথেষ্ট অবদান রাখছে না এবং নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার আঙ্কারায় পৌঁছেছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প তুরস্ককে আবার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে যুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেন। ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে এই কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়।
এদিকে ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প জোটের সদস্য দেশগুলোর পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন এবং ন্যাটো ছাড়ার হুমকিও দিয়েছেন।
ন্যাটো সদস্য দেশগুলো সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত এবং ২০২৬ সালে দেশটির জন্য ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
সম্মেলনের আগে সোমবার রাশিয়া কিয়েভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংকটও স্পষ্ট হয়েছে।
এসএন/পিডিকে