সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবসের দরপতনের ধারার অবসান ঘটল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার মেঘ কিছুটা কেটে যাওয়ায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। তবে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কঠোর সুদের হার নীতি নিয়ে এখনও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। খবর রয়টার্সের।
গত শুক্রবার (১১ জুন) স্বর্ণের দাম কমে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে সোমবার (২২ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ২০৮ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সুবাদে তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তেল খাত থেকে ‘হট মানি’ বা অস্থির পুঁজি তুলে নিয়ে আবার স্বর্ণের বাজারে খাটানো শুরু করেছেন।
ইরানের প্রেস টিভির তথ্যমতে, সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের প্রথম দফার আলোচনা শেষ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক চলছে, যার লক্ষ্য গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অন্তত ৬০ দিন বাড়ানো। এই ইতিবাচক খবরের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ কমে গেছে।
তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সুদের হার বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ কোনো লভ্যাংশ দেয় না।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেডের বৈঠকের আগে ছিল মাত্র ৬১ শতাংশ।
বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক মর্গান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার ২০০ ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। তবে তা ইটিএফ ক্রয় ও তেলের কম দামের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে সোমবার স্পট সিলভার বা রোপার দাম দুই দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৬৭৮ দশমিক ১৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম এক দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২৭৪ ডলারে উঠেছে।